ক্রীড়া ডেস্ক: পাঁচবার ক্যারিবীয়দের কাছে হারের পর অবশেষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জয়ের দেখা পেল ইংল্যান্ড।
শনিবার দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করে ১৪.২ বল খেলে ৫৫ রানে অলআউট হয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জবাবে ৮.২ ওভার শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় ইংল্যান্ড।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এর আগে কখনও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জিততে পারেনি ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল। সবশেষ ২০১৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে ইংলিশদের পরাজয়ের ম্যাচটি তো রীতিমতো ইতিহাসেরই অংশ হয়ে গেছে।
কুড়ি ওভারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে কম বলে ম্যাচ জেতার রেকর্ডে চার নম্বরে উঠে গেছে ইংলিশদের জয়টি। সবচেয়ে কম ৩০ বলে ম্যাচ জেতার রেকর্ড শ্রীলঙ্কার। এছাড়া ৪৩ বলেও ম্যাচ জেতার নজির রয়েছে তাদের। দুইবারই প্রতিপক্ষ ছিলো নেদারল্যান্ডস। এবার তুলনামূলক শক্তিশালী দলের বিপক্ষেই ৫০ বলে জিতলো ইংলিশরা।
দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে ফিল্ডিং নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটারদের নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করেছেন আদিল রশিদ, মইন আলি, টাইমাল মিলসরা। ইংলিশদের বোলিং তোপে মাত্র ৫৫ রানে অলআউট হয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এই প্রথম একশ রানের নিচে অলআউট হলো দুইবারের চ্যাম্পিয়নরা। এর আগে বিশ্বকাপে তাদের সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ ছিলো ২০০৯ সালের আসরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১০১ রানে অলআউট হওয়া।
আর সবমিলিয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটি ক্যারিবীয়দের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন স্কোর। ২০১৯ সালের মার্চে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৪৫ রানে অলআউট হয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এবার সেটি টপকে গেলেও বিশ্বকাপে নিজেদের সর্বনিম্ন রান টপকাতে পারেনি কাইরন পোলার্ডের দল।
ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে ২১ রান যোগ করেন জেসন রয় ও জস বাটলার। চতুর্থ ওভারের প্রথম বলে আউট হওয়ার আগে ১১ রান করেন রয়। এরপর অল্পেই ফিরে যান জনি বেয়ারস্টো (৯), মইন আলি (৩) ও লিয়াম লিভিংস্টোন।
এর আগে ব্যাট করতে নেমে মইন আলির করা প্রথম ওভারের শেষ বলে ছক্কা হাঁকান বাঁহাতি ওপেনার এভিন লুইস। পরের ওভারে ক্রিস ওকসের বলেও একই লক্ষ্যে ব্যাট চালান তিনি। কিন্তু আকাশে উঠে যাওয়া সেই শটে ক্যাচ ধরতে ভুল করেননি আগের ওভার ছক্কা হজম করা মইন।
ছক্কা দিয়ে শুরু লুইসের ব্যাট থেকে আসে এই ছয় রানই। তিন নম্বরে নামেন গেইল। প্রথম দুই বলে রান নিতে পারেননি তিনি। মুখোমুখি তৃতীয় ও চতুর্থ বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে তিনিও বার্তা দেন ভালো কিছুর। কিন্তু সেই দুই বাউন্ডারির পর যেনো খোলসবন্দী হয়ে পড়েন ইউনিভার্স বস।
গেইল সাজঘরে ফেরেন পাওয়ার প্লে’র শেষ ওভারের শেষ বলে। টাইমাল মিলসের করা সেই ওভারের পঞ্চম বলে বাউন্ডারি হাঁকানোর পর শেষ বলেও বড় শট খেলেন গেইল। কিন্তু হাওয়ায় ভেসে যাওয়া বল মিডউইকেট অঞ্চল থেকে খানিক দৌড়ে পেছনে গিয়ে তালুবন্দী করে ফেলেন ডেভিড মালান।
রানের খাতাই খুলতে পারেননি মারকুটে অলরাউন্ডার আন্দ্রে রাসেল। আদিল রশিদের গুগলি বুঝতে না পেরে হাস্যকরভাবে বোল্ড হন তিনি। একপ্রান্ত ধরে রেখে খেলছিলেন অধিনায়ক পোলার্ড। প্যাভিলিয়নের পথ ধরার আগে পোলার্ড করেন ৬ রান। তার আউট হওয়ার পরের বলেই সাজঘরে ফিরে যান ওবেদ ম্যাকয়। শেষ উইকেটে ছয় রান যোগ করে দলীয় সংগ্রহটা পঞ্চাশ রান পার করান রবি রামপল (৩) ও আকিল হোসেন (৬)।
ইংল্যান্ডের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল লেগস্পিনার আদিল রশিদই। তিনি ২.২ ওভারে মাত্র ২ রান খরচায় নিয়েছেন ৪টি উইকেট। এছাড়া মইন আলি ও টাইমাল মিলস নিয়েছেন ২টি করে উইকেট।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: এভিন লুইস, লেন্ডল সিমন্স, ক্রিস গেইল, শিমরন হেটমায়ার, নিকোলাস পুরান, কাইরন পোলার্ড, আন্দ্রে রাসেল, ডোয়াইন ব্রাভো, আকিল হোসেন, ওবেদ ম্যাকয় ও রবি রামপল।
ইংল্যান্ড: জেসন রয়, জস বাটলার, ডেভিড মালান, জনি বেয়ারস্টো, লিয়াম লিভিংস্টোন, ইয়ন মরগান, মঈন আলী, ক্রিস ওকস, ক্রিস জর্ডান, আদিল রশিদ ও টাইমাল মিলস।