স্টাফ রিপোর্টার: সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বাণিজ্যিক কেন্দ্র বাদাঘাট বাজারে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের গোডাউনের তালা ভেঙে প্রায় ২০ লাখ টাকার অ্যালুমিনিয়াম ও প্লাস্টিকের ফার্ণিচার চুরির মামলায় হাফিজুর রহমান (৩৫) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাদাঘাট ইউনিয়নের দীঘিরপাড় গ্রামের সংলগ্ন বাদাঘাট-সুনামগঞ্জ সড়ক থেকে তাকে আটক করা হয়।
বাদাঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মনিরুজ্জামান সজলের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। আটককৃত হাফিজুর রহমান বাদাঘাট (নাগরপুর) গ্রামের রহিছ উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পৈলনপুর গ্রামের মৃত হাজী সিরাজুল হকের ছেলে নাছির উদ্দীন প্রায় ১২ বছর ধরে বাদাঘাট বাজারের তাজুল ইসলাম মার্কেটে দোকানঘর ও গোডাউন ভাড়া নিয়ে ‘মেসার্স নাসির এ্যালুমিনিয়াম এন্ড প্লাস্টিক ফার্ণিচার’ নামে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার কয়েকদিন আগে মার্কেটের মালিক আবুল কালাম আজাদ ব্যবসায়ী নাছির উদ্দীনকে দোকানঘর ও গোডাউন ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৫ জুলাই রাত আনুমানিক ১টার দিকে আবুল কালাম আজাদ (৪৫), তার ছেলে তারিকুল ইসলাম (২২), ছোট ভাই আবুল হাসান (৪১), হাফিজুর রহমান (৩৫), রহমত আলী (৩৫), নুর আলম (৩৮)সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জন গোডাউনের তালা ভেঙে ভেতরে থাকা অ্যালুমিনিয়াম ও প্লাস্টিকের ফার্ণিচারসহ প্রায় ২০ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরদিন ১৬ জুলাই সকালে নাছির উদ্দীন বাজারে গিয়ে গোডাউনে নতুন তালা দেখতে পান। বিষয়টি তিনি আশপাশের দোকান মালিক এবং বাজার কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে জানান। পরে তাদের উপস্থিতিতে গোডাউনের তালা খুলে ভেতরে গিয়ে মালামাল না পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হন তিনি।
এ ঘটনায় ওই দিনই নাছির উদ্দীন বাদী হয়ে আবুল কালাম আজাদ, তার ছেলে তারিকুল ইসলাম, ছোট ভাই আবুল হাসান, হাফিজুর রহমান, রহমত আলী ও নুর আলমসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে তাহিরপুর থানায় মামলা করেন।
মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ অভিযান চালিয়ে হাফিজুর রহমানকে আটক করেছে।
বাদাঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মনিরুজ্জামান সজল আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “মামলার একজন আসামিকে আটক করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।