স্টাফ রিপোর্টার: মৌলভীবাজারের শেরপুরে দোকান কর্মচারী আব্দুল আজিজকে পরিকল্পিতভাবে কুপিয়ে হত্যা ও বস্তাবন্দি করে লাশ গুমের চেষ্টার প্রতিবাদে ফুসে উঠেছে সর্বস্তরের জনগণ। এ ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামি শুঁটকি ব্যবসায়ী নুরুল ইসলামসহ তার সহযোগীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
গতকাল বিকেলে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে এক বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নসহ আশেপাশের সর্বস্তরের হাজারো মানুষ অংশ নেন।
২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম ও মহাসড়ক অবরোধের হুঁশিয়ারি
ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তারা ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন—
আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান আসামিসহ হত্যাকাণ্ডে জড়িত পরিবারের সকল সদস্যকে গ্রেপ্তার করা না হলে সিলেট ও বিশ্বনাথজুড়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। প্রয়োজনে মহাসড়ক অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে নামবে সিলেটবাসী।”
মানববন্ধনে হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়ে বক্তারা জানান, শেরপুর বাজারের শুঁটকি ব্যবসায়ী নুরুল ইসলামের কাছে নিহত আজিজের প্রবাসে যাওয়ার জন্য গচ্ছিত ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা জমা ছিল। সেই টাকা আত্মসাৎ করতেই মূলত নুরুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যরা আড়ালে এই নৃশংসতার ছক আঁকে।
তারা আজিজকে ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে কুপিয়ে ও পায়ের রগ কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরে অপরাধের প্রমাণ মেটাতে লাশ বস্তাবন্দি করে দোকানের বাথরুমে লুকিয়ে রাখা হয়, যাতে গভীর রাতে পার্শ্ববর্তী কুশিয়ারা নদীতে তা ভাসিয়ে দেওয়া যায়। বক্তারা প্রশ্ন তুলে বলেন, একজন শারীরিক প্রতিবন্ধীর পক্ষে একা এমন নিখুঁত ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালানো কখনোই সম্ভব নয়; এতে মূল আসামির পরিবারের সদস্যরা সরাসরি অংশ নিয়েছে।
প্রতিবাদ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন
বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সদস্য ও রামপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট সমাজসেবক মো. খসরুজ্জামান খছরুর সভাপতিত্বে সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নিহতের ফুফুতো ভাই ব্যবসায়ী মো. মাহতাব উদ্দিন।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন—বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ: নেছার আহমদ, ইমামুল হক এনাম শাহ, তোফায়েল আহমদ, নিয়াজুল হক ও মৎস্যজীবী দল নেতা দিলওয়ার হোসেন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি: ইউপি সদস্য নূর মিয়া ও রাগিব আলী রাগিব।
নিহতের স্বজন: আজিজের ভাই হাফিজ মাওলানা আব্দুল হাই ও হাফিজ আব্দুল্লাহ।
বক্তারা অবিলম্বে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মূল হোতাদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি অর্থাৎ ‘ফাঁসি’ নিশ্চিত করার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জোর দাবি জানান।