মোঃ শরীফ উদ্দিন: হাওর ও দুর্গম অঞ্চলে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষাসেবা আরও কার্যকর করতে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার। এই লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের সঙ্গে ইতোমধ্যে একাধিক সভা করে সম্ভাব্য সমাধান ও করণীয় নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
সোমবার সকালে সুনামগঞ্জ পিটিআই ভবনে জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সুনামগঞ্জের হাওরের ক্যাচমেন্ট এলাকা (অববাহিকা এলাকায়) নিয়োগ দেওয়ার মতো খুবই কম শিক্ষক পাই।
এজন্য আমাদের অন্য কোনো এলাকা থেকে দিতে হয়।
কিন্তু অন্য এলাকাও ক্যাচমেন্ট এলাকা ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ হয়। কিছু এলাকা আছে, যেখানে শিক্ষক পাওয়া মুশকিল হয়। এরমধ্যে সুনামগঞ্জ জেলায়ও এই সমস্যা রয়েছে|এটির সমাধানে আমরা কাজ করছি। এজন্য কিছু সময় লাগবে।
স্কুল ফিডিং কর্মসূচি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, যখন আমরা স্কুল ফিডিং শুরু করি তখন অনেক জায়গায় ভুলত্রুটি ধরা পড়ছিলো। এজন্য নিয়মগুলো আরও শক্ত করেছি। প্রত্যেকটি সাপ্লাইয়ার ফুড টেকনিশিয়ান হাইয়ার করতে হবে। তারা অকে করার পর ফুড বিদ্যালয়ে যাবে। আমাদের শিক্ষা অফিসার, সহকারী শিক্ষা অফিসার কারখানাগুলোতে সারপ্রাইজ ভিজিটে যাবে।
খাবার পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরীতে যাবে। স্কুলে মায়েদের নেতৃত্বে কমিটি করা হয়েছে যারা খাবার আসার পর পরীক্ষা করবেন। যারা খাবার ডেলিভারি দেবেন, তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রসহ সবকিছু বিদ্যালয়ে থাকতে হবে|
যে জায়গায় এসব নিয়ম মানা হচ্ছে সেখানে জিরো ত্রুটিতে চলে এসেছি আমরা। তবুও যদি কোনো অনিয়মের ঘটনা ঘটে তাহলে দায়িত্বশীলসহ সাপ্লাইয়ারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে সুনামগঞ্জ পিটিআই ভবনে প্রাথমিক শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন- জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য জেলা জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. নুরুল ইসলাম নুরুল, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম, ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি শীর্ষক প্রকল্প পরিচালক আবুল আমিন, পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহন লাল দাস প্রমুখ।