স্টাফ রিপোর্টার, দোয়ারাবাজার: দোয়ারাবাজার বিলাল আহমদ হত্যা পরবর্তী আসামীদের বাড়িঘর লুটপাট ও আগুন পুড়িয়ে দেয়ায় আদালতে অভিযোগ করেছেন উপজেলার দোহালীয়া ইউনিয়নের দেওয়ান নগর গ্রামের মছরব আলীর স্ত্রী মিনারা বেগম। এপর্যন্ত মিনারা বেগম বাদি হয়ে আদালতে দুইটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সুত্রে যানাযায়, গত ৫ এপ্রিল সন্ধ্যা সময় মিনারা বেগম ও সুজন মিয়ার বসত ঘরে আগুন দিয়ে সম্পূর্ণ ঘর পুড়িয়ে দেয়া হয়। মিনারা বেগমের আরেক অভিযোগে যানা যায় গত ২৭ মার্চ তাদের পালিত ২৬ টি গরু, একটি ফার্মের ৩০০ হাঁস সহ কয়েকটি ঘরের মুল্যবান আসবাবপত্র একই গ্রামের জালু মিয়ার পুত্র সুনুর মিয়ার নেতৃত্বে এ লুটপাটের ঘটনা ঘটায়। এর মধ্যে লুট হওয়া তিনটি গরু পান্ডারগাঁও ইউনিয়নের শাহীন মেম্বার এলাকার লোকজন মিলে উদ্ধার করে গরুর মালিকের কাছে সমজিয়ে দেন। পলিরচর গ্রামে আরেক ইউপি সদস্য ছমির উদ্দিন লুট করে নিয়ে যাওয়া ৪ টি গরু আটক করেন পরে রাতের আধারে ৪ টি গরু অন্যত্র শরিয়ে ফেলেন লুটপাট করী লোকজন। ইতিমধ্যে তিনটি গরু উদ্ধার হলেও বাকি ২৩ টি গরু আর মালিক পক্ষ খোঁজে পায়নি।
এব্যাপারে শনিবার ডিবি পুলিশের এস আই মো. আব্দুর রহিম মামলার তদন্তের জন্য সরেজমিন দেওয়ান নগর গ্রামে যান।
মামলার বাদি মিনারা বেগম জানান, আমরা নিরিহ মানুষ আমাদের বাড়িতে কোন পুরুষ লোক নাথাকায় সুনুর মিয়ার লোকজন আমাদের মারপিট করে ঘরে থাকা পালং,আলমিরা,চেয়ার টেবিল, মিছরিপ সহ সম্পুর্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এর পর আমি আদালতে দুইটি মামলা দায়ের করেছি।
উদ্ধার হওয়া তিনটি গরুর ব্যাপারে পান্ডারগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শাহিন মিয়া জানান, গরু গোলো পান্ডারগাঁও ইউনিয়নের নতুন কৃষ্ঞনগর গ্রামের রফিকুল ইসলামের বাড়িতে রাখা হয়েছে। পরে দেওয়ান নগর গ্রামের সুনুর মিয়া ও দোয়ারাবাজার থানার এস আই ফয়েজ আহমদ সহ গরু উদ্ধার করে মিনারা বেগমের লোকজনের কাছে হস্তান্তর করি।
একই ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ছমির উদ্দিন জানান, আমার ওয়ার্ড এলাকার পলিরচর আওলাদ মিয়ার বাড়িতে চারটি গরু দেওয়াননগর থেকে এনে রাখা হয়েছে খবর পাই পরে এলাকার লোকজন নিয়া আওলাদের বাড়িতে চারটি গরু পাই, আওলাদ মিয়া বাড়িতে না থাকায় থাকে মোবাইল ফোনে জানানোহয় পরেরদিন পর্যন্ত গরু তার হেফাজতে রাখার জন্য। পরেরদিন আওলাদ মিয়া জানায় দেওয়ান নগরের যারা গরু রেখেছিল তারা আবার অন্যত্র সরিয়ে ফেলে। পরে আর গরুর সন্ধান পাইনি।
অভিযোক্ত সুনুর মিয়া বলেন, আমরা তাদের ঘরে আগুন দেইনি, তারা নিজেরাই তাদের ঘর পুড়িয়েছে। আমাদের হয়রানি করারজন্য মামলা করেছে তারা। গরু পান্ডারগাঁও এলাকা থেকে আমি নিজেই উদ্ধার করে দিয়েছি। আমরা তাদের গরু নেইনি।
উল্লেখ্য, গত ২৭ মার্চ গরুর ঘাস কাটাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের দুই পক্ষের সংঘর্ষে আব্দুল গফফারের পুত্র বিলাল আহমদ ঘটনার স্থলেই মারা যায়। এঘটনায় সাতজন জেলহাজতে আছেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (ডিবি) এস আই আব্দুর রহিম জানান, মামলার তদন্ত চলমান এখনও সম্পুর্ন সাক্ষীর বক্তব্য সংগ্রহ হয়নি। সব সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহন শেষে তদন্ত রিপোর্ট আদালতে প্রেরণ করা হবে।