মৌলবীবাজার প্রতিনিধি: টানা বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢলে মৌলভীবাজারে মনু ও ধলাই নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। জেলা সদর, কমলগঞ্জ, রাজনগর উপজেলার ২০টি ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার পরিবারের ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
জানা গেছে, মনু ও ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে চার উপজেলার ২০টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। বন্যায় আউশ ও সবজিখেতের পাশাপাশি পুকুরের মাছও ভেসে গেছে।
শনিবার (১১ জুলাই) ধলাই নদীর ভাঙনে কমলগঞ্জের আদমপুর, ইসলামপুর ও মাধবপুর ইউনিয়নের ১৫টি গ্রাম নতুন করে প্লাবিত হয়। রাতে উজানে পানি কমতে থাকলেও উপজেলার নিম্নাঞ্চল শমশেরনগর, পতনউষার ও মুন্সিবাজার ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হচ্ছে।
রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের উজিরপুরে ভাঙনের কারণে টেংরা ও কামারচাক ইউনিয়ন এবং সদর উপজেলার চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের বেশ কিছু গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তারাপাশা-টেংরা সড়কসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতের সড়ক তলিয়ে গেছে।
বন্যাকবলিত মানুষজন বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের তীব্র সংকটে ভুগছেন। অনেক এলাকায় রান্না বন্ধ রয়েছে কয়েকদিন ধরে। দুর্গত এলাকাগুলোতে ডায়রিয়া, জ্বর ও চর্মরোগ দেখা দিয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এদিকে অব্যাহত বৃষ্টিতে মনু নদের পানি বিপৎসীমার ৭৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে ভাঙন এলাকা দিয়ে পানি বের হয়ে নতুন করে গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে।
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ২০০টি পরিবারকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে।
রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বিপুল সিকদার বলেন, বন্যায় রাজনগর উপজেলার টেংরা, কামারচাকসহ কয়েকটি ইউনিয়নের কয়েক হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছেন। আমাদের পক্ষ থেকে খাবার বিতরণ করা হয়েছে।আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
মৌলভীবাজার জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাদু মিয়া জানান, এ পর্যন্ত চার উপজেলার ২০ হাজার ২০০টি পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ তথ্য পানি কমলে পাওয়া যাবে।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালিদ বলেন, মনু নদের পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে। ইতিমধ্যে একটি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। আমরা ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ মেরামতের কাজ করছি।