শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম ::
ফুটবল জাদুকরের শেষ অধ্যায় ‘শিশুদের নোবেল’খ্যাত আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত দোয়ারাবাজারের জামিউল হাসান আরাফ তাহিরপুরে ২০ লাখ টাকার মালামাল চুরি, হাফিজুর রহমান নামের সার ব্যবসায়ী আটক ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে সুনামগঞ্জে জসনে জুলুছে ইসলামে উগ্রবাদ, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের স্থান নেই রাজাপুরা পীরের আহ্বান ‘সুনামগঞ্জস্থ শাল্লা কল্যাণ সমিতি’র সভপতি এডভোকেট মামুন ও সম্পাদক অশেষ তালুকদার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তিন বাহিনী প্রধানের সাক্ষাৎ নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে সুনামগঞ্জের প্রতিটি সংসদীয় আসনে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের ঘোষণা-প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী সুনামগঞ্জে দৈনিক জনতা পত্রিকার ৪৩ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ইসলামি শ্রমনীতি বাস্তবায়নের আহ্বান ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গাছ কাটা বন্ধ না হলে বন বিভাগের সামনে অবস্থানের হুঁশিয়ারি মাদক চোরাচালান উদ্ধারকারী এসআই অভিজিৎ ভৌমিক, পেলেন বিশেষ সম্মাননা দিরাইয়ে দুই শিশু সন্তান হত্যার ঘটনায় বাবা গ্রেফতার, হত্যার কথা স্বীকারের দাবি ইউএনও জনি রায়ের হস্তক্ষেপে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পেল দশম শ্রেণির ছাত্রী চাঁদা না দেওয়ায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুর, কর্মচারী রক্তাক্ত; আটক ১ সিলেট বিভাগের শ্রেষ্ঠ দোয়ারাবাজার থানার এসআই রিফাত

ফুটবলার থেকে এখন মাল্টা চাষি মাহবুবুল

সুনামগঞ্জ জার্নাল :
  • প্রকাশিত সময় : শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২০
ফুটবলার থেকে এখন মাল্টা চাষি মাহবুবুল - Sunamganj Journal

সাইফুল্লাহ হাসান: একসময় মৌলভীবাজার জেলার নামকরা ফুটবলার ছিলেন। দাপিয়ে বেড়িয়েছেন মাঠ। তবে এখন সেসব কেবলই স্মৃতি মাহবুবুলের কাছে। শখের বসে বাড়ির পাশে ১২০ শতক জমিতে শুরু করা বাগানেই সময় কাটছে তার। এই শখের মাল্টা বাগানে এখন নিজের ভবিষ্যত দেখছেন মাহবুবুল। এ বাগানে রয়েছে ৬০টি মাল্টা গাছ। পাশাপাশি ১০ থেকে ১৫ জাতের ফল।

২০১৬ সালের মে মাসে কৃষি বিভাগের পরামর্শে মাল্টার চাষ শুরু করেন তিনি। এরপর করতে থাকেন গাছের যত্ন। নিজের তত্ত্বাবধানে কোনো শ্রমিক ছাড়াই শখের বাগানে পরিচর্যা করতে থাকেন। প্রথম বছরেই গাছে মাল্টা আসে। কিছু মাল্টা বিক্রি করেন, আবার কিছু আত্মীয় স্বজনদের মধ্যে বিলিয়ে দেন।

সম্প্রতি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কামালপুর ইউনিয়নের গয়গড় গ্রামে অবস্থিত মাহবুবুলের মাল্টা বাগানে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি গাছ নিচের দিকে ঝুঁকে পড়েছে মাল্টার ভারে। ফল এখনো পরিপক্ক হয়নি। দু-একটি গাছের ফল কিছুটা হলুদ বর্ণ ধারণ করেছে।

সারি সারি করা গাছগুলো নিজেই পরিচর্যা করছেন মাহবুবুল। তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, আগে এই জমিতে ব্রিকফিল্ড ছিল। পরে সেটি সরিয়ে ফেলা হয়। তাই দীর্ঘদিন এ জমিতে কিছু না লাগালেও ১৬ সালের দিকে এরকম একটা বাগান করার পরিকল্পনায় করেন। এই বাগান করার আগেও তিনি বড়িতে বিভিন্ন শাকসবজির ছোট ছোট বাগান করতেন।

ফুটবলার থেকে এখন মাল্টা চাষি মাহবুবুল - Sunamganj Journal

মাহবুবুল বলেন, বাগানটি আমি শখের বসেই করেছি। মৌলভীবাজার কৃষি বিভাগ আমাকে যথেষ্ট সহায়তা করছে। প্রথম বছর থেকেই আমার বাগানে মাল্টা ধরতে শুরু করে। গত বছর ১০ হাজার টাকার মালটা বিক্রি করেছি। প্রতি কেজি মাল্টা ২০০ টাকা করে বিক্রি করি। খুচরা কাস্টমার বেশি ছিল। পরিচিত অনেকেই আগে থেকে অর্ডার করে রাখতো।

লেবু জাতীয় ফসল মাল্টা। খুব নামি দামি এই ফলটি বাইরে থকে এসে দেশের চাহিদা মেটাতো। কিন্তু গত কয়েক বছর থেকে দেশেই হচ্ছে এই মাল্টা চাষ। দাম যেহেতু ভালো পাওয়া যায় তাই চাষিরাও ঝুঁকছেন এ মাল্টা চাষে।

পাহাড়-টিলা বেষ্টিত মৌলভীবাজার জেলার মাটি রসালো ফল চাষের উপযোগী। বিশেষ করে লেবু, কমলা ও আনারসে পাশাপাশি এখন আবাদ হচ্ছে মাল্টার।

মাহবুবুল জানান, একসময় মৌলভীবাজার জেলার ভালো একজন ফুটবলার ছিলেন তিনি। খেলেছেন জেলার বাইরে গিয়েও। পরে একসময় খেলাধুলা বাদ দিয়ে শখ করেই বাড়ির পাশেই এই বাগানটি করেন।

তিনি বলেন, বাগানে এইবার ভালো ফল এসেছে। কিন্তু বেশ কয়েকটি গাছ গ্রিনিং রোগে আক্রান্ত। নিয়মিত কীটনাশক দিচ্ছি যাতে তাড়াতাড়ি গাছটি আক্রান্ত থেকে সেরে উঠে। বাগানটি দেখতেও অনেকে আসেন। ভবিষ্যতে এই বাগান আরও বড় পরিসরে করার চিন্তা রয়েছে।

মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় এ পর্যন্ত ছোট-বড় মিলে ২৭৫টি মাল্টা বাগান গড়ে উঠেছে। বাগানে মোট জমির পরিমাণ ৮০ হেক্টর। গড় ফলন ৬ মেট্রিক টন। আর মোট ৪৮০ মেট্রিক টন উৎপাদন হওয়ার কথা বলছে কৃষি বিভাগ।

সবচেয়ে বেশি শ্রীমঙ্গল উপজেলায় মাল্টা উৎপাদন হয়ে আসছে। এ উপজেলায় পনেরো হেক্টর জমিতে ৫৫টি মাল্টা বাগান গড়ে উঠেছে।

মৌলভীবাজার কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কাজী লুৎফুল বারী রাইজিংবিডিকে জানান, এ জেলার মাটি যেহেতু কিছুটা এসিডিক সয়েল সেজন্য লেবুজাতীয় ফসলের জন্য উপযোগী। পাহাড়-টিলা বেষ্টিত জেলার মাটি মাল্টা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।

এছাড়া বারী মাল্টা-১ জাত এ অঞ্চলের মাটিতে ভালো ফলন হয়েছে। ছোট আকৃতির এ ফসল অত্যন্ত রসালো ও সুস্বাদু হিসেবে বেশ পরিচিত হয়ে উঠছে।

শেয়ার করুন...

এই ক্যাটাগরীর অন্যান্য সংবাদ...

আমাদের সাথে ফেইসবুকে সংযুক্ত থাকুন

© সুনামগঞ্জ জার্নাল কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০২৬
Design & Developed BY Cloud Service BD
themesba-lates1749691102