শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম ::
ফুটবল জাদুকরের শেষ অধ্যায় ‘শিশুদের নোবেল’খ্যাত আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত দোয়ারাবাজারের জামিউল হাসান আরাফ তাহিরপুরে ২০ লাখ টাকার মালামাল চুরি, হাফিজুর রহমান নামের সার ব্যবসায়ী আটক ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে সুনামগঞ্জে জসনে জুলুছে ইসলামে উগ্রবাদ, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের স্থান নেই রাজাপুরা পীরের আহ্বান ‘সুনামগঞ্জস্থ শাল্লা কল্যাণ সমিতি’র সভপতি এডভোকেট মামুন ও সম্পাদক অশেষ তালুকদার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তিন বাহিনী প্রধানের সাক্ষাৎ নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে সুনামগঞ্জের প্রতিটি সংসদীয় আসনে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের ঘোষণা-প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী সুনামগঞ্জে দৈনিক জনতা পত্রিকার ৪৩ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ইসলামি শ্রমনীতি বাস্তবায়নের আহ্বান ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গাছ কাটা বন্ধ না হলে বন বিভাগের সামনে অবস্থানের হুঁশিয়ারি মাদক চোরাচালান উদ্ধারকারী এসআই অভিজিৎ ভৌমিক, পেলেন বিশেষ সম্মাননা দিরাইয়ে দুই শিশু সন্তান হত্যার ঘটনায় বাবা গ্রেফতার, হত্যার কথা স্বীকারের দাবি ইউএনও জনি রায়ের হস্তক্ষেপে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পেল দশম শ্রেণির ছাত্রী চাঁদা না দেওয়ায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা-ভাঙচুর, কর্মচারী রক্তাক্ত; আটক ১ সিলেট বিভাগের শ্রেষ্ঠ দোয়ারাবাজার থানার এসআই রিফাত

অদম্য ইচ্ছেশক্তিতে এগিয়ে চলেছে অন্ধ মৃত্যুঞ্জয়

সুনামগঞ্জ জার্নাল :
  • প্রকাশিত সময় : রবিবার, ২১ নভেম্বর, ২০২১
অদম্য ইচ্ছেশক্তিতে এগিয়ে চলেছে অন্ধ মৃত্যুঞ্জয় - Sunamganj Journal

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দু’চোখে আলো নেই। মনোজ্ঞান ও ইচ্ছেশক্তি দিয়েই চলছে জীবন যুদ্ধ। চোখে না দেখেও প্রায় একযুগ ধরে বাঁশ বেতের বিভিন্ন জিনিসপত্র তৈরি করে চলছে মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাস (৩০)-এর সংসার। মৃত্যুঞ্জয় আপন হাতে যত্ন নিয়ে বুনে চলেছেন কুলা, চাটাই, চাঙারি, টুকরি, ওড়া, ডালা, চালুনি, মাছ রাখার খালই, ঝুড়ি ও হাঁস-মুরগির খাঁচাসহ বাঁশ বেতের নানা জিনিস। তার এ কাজে সাহায্য করেন বৃদ্ধ পিতা বীরেন্দ্র বিশ্বাস।

মৃত্যুঞ্জয়ের বয়স তখন ১২/১৩ বছর। ওই সময়ে তার দুই চোখে ব্যথা হতো। চোখের চিকিৎসা অনেক ব্যয়বহুল হওয়ায় গরিব পরিবার চিকিৎসা করাতে পারেনি। প্রায় ১৫ বছর আগে চোখের আলো হারিয়ে ফেলেন তিনি।

মৃত্যুঞ্জয় বলেন, ‘ছোটবেলায় টাকার অভাবে চোখের চিকিৎসা করাতে পারিনি। আর এখন তো চোখের রগ শুকিয়ে গেছে। ডাক্তার বলছে এখন আর চোখ ভালো হবে না।’

তিনি বলেন, ‘আমি শারীরিক প্রতিবন্ধী। চোখে দেখি না। তবে সৃষ্টিকর্তা আমাকে কাজ করার শক্তি দিয়েছেন। ছোট করে হলেও কাজ করে খেতে পারি। কারও কাছে হাত পাততে হয় না। তাই ভালো আছি।’

মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাসের শৈশব, কৈশোর কেটেছে সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার করিমপুর ইউনিয়নের ছায়াঘেরা পুরাতন কর্ণগাঁও গ্রামে। তার পৈত্রিক ভিটেবাড়ি এটি। চার ভাইবোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়। দুই বোনের বিয়ে হয়েছে। একমাত্র ছোটভাই সনঞ্জয় বিশ্বাস দিরাই শহরে একটি মিষ্টির দোকানে চাকুরী করেন। গরিব পরিবারে জন্ম নেয়ায় স্কুলে যাওয়ার সৌভাগ্য হয়ে উঠেনি তার। অভাবের তাড়নায় ছোট থেকেই কর্মজীবনে জড়িয়ে পড়েন।

মৃত্যুঞ্জয় বলেন, আমি চোখে না দেখলেও এই বাড়ি-ঘর, বাঁশ বেত আমার চেনা। আমার কাজগুলো আমি করতে পারি। বছরখানেক আগে মৃত্যুঞ্জয় বিয়ে করেন। স্ত্রী আর বৃদ্ধ বাবা-মাকে নিয়েই তার সংসার।

চোখের আলো নেই, তবুও বেত ওঠানো, বুনন এমন জটিল কাজ কিভাবে করছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে মৃত্যুঞ্জয় বলেন, ভিক্ষা করা, মানুষের কাছে হাতপেতে কিছু নেওয়া আমি পছন্দ করি না। চোখের আলো হারিয়ে বিমর্ষ হয়ে পরেছিলাম। তবে হাল ছাড়িনি। কিছু করার অদম্য ইচ্ছা থেকে আজকে এপর্যন্ত এসেছি। কাজ করে খাওয়ার মধ্যে আনন্দ আছে। সমাজে সবার সঙ্গে আনন্দ নিয়ে থাকা যায়।

মৃত্যুঞ্জয়ের পিতা বীরেন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ধারালো দা দিয়ে বেত ওঠানোসহ যে কোন ধরনের বাঁশ বেতের জিনিস দ্রুততার সাথে করতে পারে মৃত্যুঞ্জয়। অসহায়ের সহায় তাকে সেই শক্তি দিয়েছেন।

মৃত্যুঞ্জয় নিজের কর্মক্ষেত্র আরেকটু বিস্তৃত করার স্বপ্ন দেখেন। তার তৈরী করা বাঁশ বেতের জিনিস বিক্রির জন্য দিরাই পৌর শহরে একটি দোকান করতে চান তিনি। মৃত্যুঞ্জয় বলেন, পাইকাররা ন্যায্য দাম দেয় না। শহরে নিজের একটি দোকান থাকলে মালের চাহিদা আরও বাড়তো। উপযুক্ত মুল্যও পেতাম। কিন্তু আমার সে সামর্থ্য নেই। সরকার যদি সহযোগিতা করতেন, তবে এই অন্ধের স্বপ্ন পূরণ হতো।

শেয়ার করুন...

এই ক্যাটাগরীর অন্যান্য সংবাদ...

আমাদের সাথে ফেইসবুকে সংযুক্ত থাকুন

© সুনামগঞ্জ জার্নাল কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। © ২০২৬
Design & Developed BY Cloud Service BD
themesba-lates1749691102