দিরাই প্রতিনিধি: বই যদি হয় জ্ঞানের ভাণ্ডার, তাহলে নিঃসন্দেহে সেই ভাণ্ডারের ভাণ্ডার হচ্ছে পাঠাগার। ধর্মের চর্চার জন্য চাই মসজিদ-মন্দির, বিজ্ঞানের চর্চার জন্য ল্যাবরেটরি, তেমনি জ্ঞান চর্চায় জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হওয়ার জন্য যেতে হবে পাঠাগারে। প্রায় ২বছর আগে বইপাগল যুবক ফারহানুল হক গড়ে তোলেন সেই জ্ঞানের বাতিঘর পাঠাগার। স্মৃতি রক্ষার্থে পাঠাগারটির নামকরণ করেন তার মায়ের নামে। ‘নায়লা বেগম স্মৃতি পাঠাগার’ প্রতিষ্ঠার পর থেকে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে বইপ্রিয় মানুষের মননে।
শাহ আব্দুল করিমের স্মৃতি বিজড়িত কালনী নদীর কূলে অবস্থিত দিরাই শহর। এই শহরে জন্ম নিয়েছেন অনেক প্রখ্যাত গুণিজন। শহরের হারানপুরে কালনীর শাখা চামটি নদীর তীরে স্থাপিত হয়েছে “নায়লা বেগম স্মৃতি গণ পাঠাগার”।
পাঠাগারটিতে প্রতিদিন শিক্ষার্থী, নবীন, প্রবীণ আর যুবাদের মিলনমেলা হয়। তারা এসে বই, খবরের কাগজ পড়েন। প্রতি মাসে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়ে হয়ে থাকে বিভিন্ন ধরনের জ্ঞানঅর্জন এবং মেধাবিকাশমূলক প্রতিযোগীতা। গণ পাঠাগারটি প্রবাসী এবং স্থানীয় ব্যাক্তিদের সহযোগীতায় এগিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত।
পাঠাগারের উদ্যোক্তা এবং প্রতিষ্ঠাতা মোঃ ফারহানুল হক বলেন, দিরাই শহরে একমাত্র গণ পাঠাগার হচ্ছে এটি। মানুষকে বইমুখী করার পাশাপাশি মায়ের স্মৃতি রক্ষার্থে এমন উদ্যোগ নেই। প্রতিষ্ঠার স্বল্প সময়েই পাঠাগারটি স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছে। অবহেলিত ভাটি অঞ্চলে শিক্ষার মান উন্নয়নে কাজ করতে পেরে আমি খুশি।
পাঠাগারটিতে বর্তমানে হাজারের অধিক দেশি, বিদেশি বই রয়েছে। সদস্য সংখ্যা দুই শতাধিক। প্রতিদিন অর্ধশতাধিক পাঠক নিয়মিত পাঠাগারে পাঠ করতে আসেন। পাঠাগারে বই ও পাঠকের সংখ্যা দিনদিন বেড়ে চলেছে বলে জানান ফারহানুল হক।