নিজস্ব প্রতিবেদক: বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখলুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের সাম্প্রদায়িকতা উষ্কে দিচ্ছে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা। কুমিল্লাতে পূজামন্ডুপে পবিত্র কোরআন রাখা হয়েছে আওয়ামীলীগের অধীনে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরাও পড়েছে তারা। বাংলার সকল ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা দেয়ার দায়িত্ব হচ্ছে সরকারের। কিন্তু সরকার সম্পূর্নভাবে ব্যার্থ হয়েছে। বৃহত্তর মুসলিম সম্প্রদায়ের নিরাপত্তাও দিতে পারেনি। এতে এই সরকারের পদত্যাগ করা উচিত।
রোববার দুপুরে সুনামগঞ্জে সদ্য প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেস্টা ও সাবেক হুইপ অ্যাডভোকেট ফজলুল হক আছপিয়ার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে গিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামীলীগ সরকার যতবার ক্ষমতায় এসে দেশে মেঘা প্রকল্প তৈরা করে মেঘা দুর্নীতি করছে। দুর্নীতিটা হচ্ছে তাদের প্রধান কাজ। ১০ টাকা কেজিতে চাল দিবে বলে এখন দাম বাড়িয়ে ৭০টাকায় চাল খাওয়াচ্ছে বর্তমান সরকার। ১৯৭১ সালে বাংলার জনগণ যুদ্ধ করেছিলো একটি মুক্ত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে, মানুষের ভোট দেয়ার অধিকার, ভাতের অধিকার, বাকস্বাধীনতা, মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করা জন্য। কিন্তু এসব কিছু বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার হনন করেছে। মানুষের ভোটের ও ভাতের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ এখন কঠিন সময় পার করছে। দুঃসময় পার করছে।
নির্বাচন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, এদেশে নির্বাচন তখনই হবে যখন দেশে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরী হবে। নির্বাচনের পরিবেশ তৈরী হতে হলে সরকারকে ক্ষমতা থেকে নেমে নির্বাচন দিতে হবে। নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরী করতে হবে। তাহলে জনগণের ভোটের নির্বাচন সম্ভব। না হয় তাদের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়, একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন দিলে দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসবে।
শেষে বিকালে শহরের জামতলা জান্নাত কমিউনিটি সেন্টারে সদস্য প্রয়াত বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেস্টা ও সাবেক হুইপ অ্যাডভোকেট ফজলুল হক আছপিয়ার শোক সভায় যোগদিয়ে প্রধান অতিথি’র বক্তব্য রাখেন তিনি।
শোকসভায় জেলা বিএনপির সভাপতি কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নুরুলের সঞ্চালনায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ. জেড. এম জাহিদ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাশাওয়াত হোসেন জীবন, সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরী, মিজানুর রহমান, সাবেক সংসদ সদস্য নজির হোসেন প্রমুখ।