জামালগঞ্জ প্রতিনিধি: জামালগঞ্জ সাব রেজিস্ট্রার অফিসের এক দলিল লেখকের বিরুদ্ধে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবীর সহকারী (মুহরি)’র বৈধ জায়গা জাল দলিল করে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ।
এ বিষয়ে ভোক্তভোগী আদালতে একটি মামলা দায়ের করাসহ জেলা রেজিস্ট্রার বরাবর করেছেন লিখিত অভিযোগ করেছেন। তাদের এই ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকে জেলা জুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
আদালতে দায়েরকৃত মামলা ও অভিযোগপত্র সূত্রে জানা গেছে, জেলার জামালগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের দলিল লেখক জাহাঙ্গীর আলম (সনদ নং-৪৯) ও জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবীর সহকারী আব্দুল বারী তালুকদারের পরিবারের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়াদি নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত বিরোধ চলছে। তারই সূত্রে ধরে দলিল লেখক জাহাঙ্গীর আলম তার আপন ভাই জিয়াউল কবির ও চাচতো ভাই খাইরুল আলমের নামে ভুয়া আর এস পর্চা ও জাল দলিল তৈরি করে মুহরি আব্দুল বাবী তালুকদারের প্রায় কোটি টাকার সম্পত্তি আত্মসাত করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে।
এঘটনার প্রেক্ষিতে গত ১৯ সেপ্টেম্ভর মুহরি আব্দুল বারী তালুকদার বাদী হয়ে সুনামগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৮৭১/৩৪ ধারায় মামলা নং-১৩৭/২০২১ইং দায়ের করাসহ গত ২৬ সেপ্টেম্ভর জেলা রেজিস্ট্রার নিকট একটি লিখিতো অভিযোগ দায়ের করেন। এর আগে গত ৪ এপ্রিল ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে দলিল লেখক জাহাঙ্গীর আলমের অনিয়ম ও দূর্নীতির বিরুদ্ধে মোকদ্দমা নং-২৩৬২/২১ইং দায়ের করা হয়।
এব্যাপারে ভোক্তভোগী আব্দুল বারী তালুকদার জানান, দলিল লেখক জাহাঙ্গীর আলম জামালগঞ্জ সাব রেজিস্টার অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ম্যানেজ করে জাল দলিল করে আমার জায়গা-সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টা করছে। এর আগে অনেক নিরীহ মানুষের জায়গা জাল দলিল করে হাতিয়ে নিয়েছে দলিল লেখক জাহাঙ্গীর। এই দূর্নীতিবাজ দলিল লেখককে দৃষ্টান্ত মূলক শাশ্তি’ দিয়ে এলাকার নিরীহ মানুষের জায়গা-জমি তার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সুদৃষ্টি কামনা করছি।
এব্যাপারে অভিযুক্ত দলিল লেখক জাহাঙ্গীর আলম জানান, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা মিথ্যা। আমি ভুয়া দলিল তৈরি করে কারো জায়গা দখলের চেষ্টা করিনি এটা আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত।
জেলা রেজিস্ট্রার মফিজুল ইসলাম জানান, জামালগঞ্জ সাব-রেজিস্টার অফিসের দলিল লেখক জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে তা তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।