অনলাইন ডেস্ক: আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে ডলারের বিনিময় হার এখন ঊর্ধ্বমুখী। বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় মার্কিন ডলারের আধিপত্য নিয়ে উদীয়মান অর্থনীতি বিশেষত ব্রিকস দেশগুলো হতাশায় রয়েছে। অর্থনীতিতে ডলারের প্রভাব থেকে উদ্ভূত হয়েছে অসন্তুষ্টি। ব্রিকস দেশগুলো তাদের নিজস্ব মুদ্রা চালু করা বা বাণিজ্য সম্প্রসারণের মতো বিকল্পগুলো নিয়ে আলোচনা করছে। তবে বাস্তবে প্রায়োগিক পদক্ষেপের অভাব রয়ে গেছে এখনো।
দ্য ন্যাশনাল নিউজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মুদ্রাবাজারে ডলারের সঙ্গে চীনা ইউয়ান ও রুশ রুবলের জোর প্রতিযোগিতা শুরু হয়। কার্ড পেমেন্ট ব্যবস্থা থেকে শুরু করে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক লেনদেনের প্রতি ক্ষেত্রেই বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা দেয়। আশঙ্কা দেখা দেয় মুদ্রাবাজারে ডলারের আধিপত্য বজায় রাখা নিয়ে। বিশেষ করে গত বছর ডলারের বিনিময় হারে কিছুটা নড়বড়ে অবস্থা দেখা দেয়। তবে এত জল্পনাকল্পনার পরও ডলারের দাপট কমেনি।
ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা যখন জোহানেসবার্গে মিলিত হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে তখন মার্কিন ডলারের বৈশ্বিক আধিপত্য নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে দেশগুলো তা সমাধান করবে বলে আশা করা হচ্ছে। রাশিয়া ও চীনের পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকার নালেদি পান্ডোর ব্রিকসের নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে বাণিজ্যিক মুদ্রার বিকল্প খোঁজার চেষ্টা করা হচ্ছে।
প্রায় ২৫টি দেশ ব্রিকসে যোগ দিতে চায়। ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা এ জোটের মূল সদস্য। জোটে যোগ দিতে আগ্রহী দেশের সংখ্যা বর্তমানে ২৫-এ এসে দাঁড়িয়েছে। এ দেশগুলো যোগ দিলে মোট ৩০টি দেশ ব্রিকস মুদ্রা চালু করতে পারে। কয়েক বছর ধরেই ব্রিকস পে নামে নিজস্ব পেমেন্ট সিস্টেম দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে উদীয়মান অর্থনীতির জোটটি। এর মাধ্যমে সদস্যদেশগুলো নিজস্ব মুদ্রায় আমদানি ও রফতানি করতে পারবে। ডলারনির্ভরতা কমানোর ক্ষেত্রে এটা বৈপ্লবিক ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করে ব্রিকস জোট। ব্রিকস নিজস্ব মুদ্রা প্রবর্তনের কথা বলা সত্ত্বেও দেশগুলোর কাছ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবিক কার্যকর পদক্ষেপ এখনো আসেনি।
প্রায়ই ডলারের আধিপত্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য আর্থিক সমস্যা তৈরি করে আসছে। যার মধ্যে আর্থিক নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ নানান অর্থনৈতিক বিষয় জড়িত রয়েছে। ডলারের দাম ওঠানামা উন্নয়নশীল দেশগুলোর বিনিয়োগ, ঋণ পরিশোধ এবং আমদানি ব্যয়কে নানাভাবে প্রভাবিত করে অর্থনীতিকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।
কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো এবং ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার মতো কিছু নেতা স্থানীয় মুদ্রায় ট্রেডিংয়ের পক্ষে মত দিলেও ডলারের বিকল্পগুলো নানান সীমাবদ্ধতার কারণে সফলতার মুখ দেখেনি। সম্প্রতি বিশ্বে যদিও ইউরো ও চীনের ইউয়ান কিছুটা ব্যবহার প্রাধান্য পেয়েছে, তবে ডলার প্রাথমিক বৈশ্বিক মুদ্রা হিসেবে এখনো রয়ে গেছে। আর্জেন্টিনা ও জিম্বাবুয়ে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে ডলারের স্থিতিশীলতা ধরে রাখার অন্যতম উদাহরণ দেয়।
ডলারকে প্রতিস্থাপনের যথাযথ কোনো বিকল্প এখনো সত্যিকার অর্থে তৈরি করা যায়নি। বিকল্প মুদ্রার গ্রহণযোগ্যতার জন্য যতটুকু সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি দরকার, যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে সমমানের অন্য কোনো দেশ তা এখনো অর্জন করতে পারেনি।