শাল্লা প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের শাল্লায় অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বিনা র্যায়লটি’তে নদী থেকে বালু উত্তোলণের একটি ড্রেজার মেশিন ও তিনটি ষ্টীলবডির বড় বড় নৌকা জব্দ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। আর এ বালু উত্তোলণে জড়িত রয়েছে এলাকার একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট চক্র।
সোমবার (৭মার্চ) দুপুরে উপজেলার বাহাড়া ইউনিয়নের মেদা নতুন বাজারের পাশ দিয়ে প্রবাহিত আন্ত:জেলা কুশিয়ারা (কালনী) নদী হতে বিনা র্যায়লটি’তে অবৈধভাবে বালু উত্তোলণের সময় একটি ড্রেজার মেশিন ও তিনটি ষ্টীলবডির বড় বড় নৌকা জব্দ করেন শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু তালেব। সেই সাথে বালু উত্তোলণ কাজের দুইজন শ্রমিক ও একজন কুকারকেও আটক করেন তিনি। আটককৃত তিনজনের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় নিশ্চিত করেছেন ইউএনও আবু তালেব।
আটককৃতদের স্বীকারের ভিত্তিতে উপজেলার বাহাড়া ইউনিয়নের মেদা গ্রামের মিজানুর রহমান সানি ও মির্জাকান্দা গ্রামের কাজল মিয়া ওই বালু উত্তোলণে জড়িত বলেও জানিয়েছেন ইউএনও আবু তালেব। তবে ওইদিন বিকেলে বালু উত্তোলণে জড়িত সিন্ডিকেট চক্রের একজনকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৫০হাজার টাকা জরিমানা করেন ইউএনও আবু তালেব।
সরজমিনে মেদা নতুন বাজারে গিয়ে দেখা যায় জব্দকৃত ড্রেজার মেশিন ও নৌকাগুলো অরক্ষিত অবস্থায় নদীর পাড়ে বাঁধা রয়েছে। স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা হলে শুধু মিজানুর রহমান সানি ও কাজল মিয়াই নয়, এর সাথে একই ইউনিয়নের মেদা গ্রামের আহাদ নূর, নিখিল, অনুজ, জামাল, কাজলও জড়িত বলে জানা যায়। শুধু তাই নয়, মেদা গ্রামের আহাদ নূর, নিখিল, অনুজ, জামাল, কাজল ও মির্জাকান্দা গ্রামের কাজল মিয়াও এ অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলণে জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন অভিযুক্ত মিজানুর রহমান সানি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতাপপুর পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় ও একটি রাস্তার কাজে বালু দিতেই চক্রটি বাহাড়া ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি পীযুষ কান্তি দাস,উপজেলা যুবলীগ নেতা মোঃ তকবির হোসেন ও সাবেক মেম্বার নরেশ অধিকারীর সাথে কথা বলেই বালু উত্তোলন শুরু করে চক্রটি।
এবিষয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলণের মূল হোতা মিজানুর রহমান সানির মুঠোফোনে বলেন, ইউনিয়ন আ’লীগ পীযুষ কান্তি দাস, উপজেলা যুবলীগ নেতা মোঃ তকবির হোসেন ও সাবেক মেম্বার নরেশ অধিকারীর সাথে কথা বলেছেন এবং তারা নাকি এমপি (সাংসদ) মহোদয়ের সাথে ও ইউএনও সাহেবের সাথে কথা বলেছেন স্কুলে ও রাস্তায় বালু দিতে।
তিনি আরো বলেন, ভাই আমি সহজ-সরল মানুষ, আমি এর সাথে জড়িত ছিলাম না। এখন দেখছি শুধু আমার নামই আসছে। তারাই আমাকে ভুল বুঝিয়ে ফাঁসিয়েছে। কি আর করবো ভাই, সবই আল্লাহ’র ইচ্ছা।
মিজানুরের অপর সঙ্গী মির্জাকান্দা গ্রামের কাজল মিয়ার মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, ভাই একটু পরে কথা বলি ভাই, আমি প্রি হয়ে ফোন করবো। আমি ঝামেলায় আছি।
মিজানুর রহমান সানি ও কাজল মিয়ার আরেক সহযোগি মেদা গ্রামের আহাদ নূরের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, অন্যায় কাজ কি আর ন্যায় হবে, ঘুঙ্গিয়ারগাঁও এসে আপনার সাথে দেখা করবো বলেই ফোনটি রেখে দেন।
এব্যাপারে বাহাড়া ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি পীযুষ কান্তি দাসের সাথে যোগাযোগ করতে গেলে তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
উপজেলা যুবলীগ নেতা মোঃ তকবির হোসেনের মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, আমি নদী থেকে বালু উত্তোলণের বিষয়ে কিছুই জানি না। এগুলো মিথ্যা।
সাবেক মেম্বার নরেশ অধিকারীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মিজানুর রহমান সানি ও তার লোকজন আমাকে জানালে আমি তাদেরকে বলেছি- বিষয়টি আইনীভাবে জটিল, যা কিছুই করো বুঝে-শুনে করো। এতোটুকুই আমি জানি। এর বেশী
কিছুই নয়।
ঘটনাটির সর্বশেষ জানতে ইউএনও আবু তালেবের মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, শ্রমিক তিনজন আটক করেছিলাম মুলত: মূল মালিককে পাওয়ার জন্য। এ অন্যায় কাজের হোতা মেদা গ্রামের রহিছ মিয়ার ছেলে জামাল মিয়াকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৫০হাজার টাকা জরিমানা করে মুছলেকা সমেত আটককৃতদের ছেড়ে দেয়া হয় এবং জব্দকৃত ড্রেজার মেশিন ও নৌকাগুলো দিয়ে দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।