নিজস্ব প্রতিবেদক: সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান শাহরিয়ার ও ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের হাতে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও এক প্যানেল চেয়ারম্যান (ইউপি সদস্য) লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনাযর প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে এলাকাবাসী।
শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১ টায় সদর উপজেলার জাহাঙ্গীর ইউনিয়নে কাইয়ারগাও বাজারে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার মুক্তিযুদ্ধারাসহ নানা শ্রেণি পেশার লোক অংশ নেন।
মানববন্ধনে স্থানীয় সেলিম আহমেদের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার শাহ আলম, বীর মুক্তিযোদ্ধা বজলুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ছেদু মিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা মজিবুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আলী, ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য (প্যানেল চেয়ারম্যান) নজরুল ইসলাম মানিক, আওয়ামী লীগ নেতা রইছ মিয়া, অ্যাডভোকেট শামীম আহমদ প্রমুখ।
এ সময় বক্তারা বলেন, সীমান্ত এলাকার দরিদ্ররা নদীতে বালি-পাথর উত্তোলন করে জীবিকা নির্বাহ করে। তাদের তোলা পাথর নদীর ঘাটে জব্দ করে প্রতি মাসে নিলামে বিক্রি করছেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। ৯ ফেব্রুয়ারি জব্দকৃত পাথর নিলামের সময় স্থানীয় মকবুল হোসেনের সঙ্গে উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারী তহসিলদার কামাল হোসেনের বাগিবতণ্ডা হয়। এ নিয়ে তাকে মারধর করা হয়। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য ঘটনাস্থলে এসে বিষয়টি মীমাংসার কথা বললে ইউএনও তাকে লাঞ্ছিত করেন। এর প্রতিবাদ জানিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারাসহ সামাজিক নানা শ্রেণীর মানুষ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বালু মহাল নিলামে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা প্রকাশ্য নিলামে স্থানীয় ইউপি সদস্যের কলার চেপে টানাহেঁচড়া করেন। এর আগে নদীর ঘাটে নৌকা রাখার অভিযোগে জাহাঙ্গীর ইউনিয়নের ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মকবুল হোসেনকে মারধর করা হয়। তিনি বিভিন্ন সময় ক্ষমতার অপব্যবহার করেন। একজন সরকারি কর্মকর্তা এইভাবে একজন জনপ্রতিনিধিকে লাঞ্ছিত করতে পারেন না। জনপ্রতিনিধি ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার না হলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলা হবে এবং অবিলম্বে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান শাহরিয়ারকে অপসারণ দাবি জানান।
এ ব্যাপারে ইউএনও ইমরান শাহরিয়ারকে একাধিকবার ফোন দিলেও তাকে পাওয়া যায়নি।