বিনোদন ডেস্ক: ছিলেন বগুড়ার ডিসলাইনের (ক্যাবল অপারেটর) ব্যবসায়ী। সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে রাতারাতি বনে যান তারকা। বলছি আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলমের কথা।
আলোচনায় এসে সমালোচিতও কম হতে হয়নি তাকে। তবে এই সমালোচনাকে নিজের দূর্বলতা না বানিয়ে তুরুপের তাস বানিয়েছেন তিনি। এখন সমালোচনা দিয়েই আলোচনায় থাকেন তিনি।মূলত হিরো আলমকে নিয়ে সমালোচনা করা যায়, কিন্তু তাকে এড়িয়ে যাওয়া যায় না।
যে যা যাই বলুক, তাতে খুব বেশি পাত্তা দেন না তিনি। কাজ করেন আপন মনে। তবে এবার মনের কষ্টে সিনেমা ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়া খ্যাত এই তারকা।
এফডিসিতে গিয়ে বার বার অপমানিত হওয়ার কষ্টে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সোমবার (৩১ জানুয়ারি) ফেসবুক লাইভে এসে এই ঘোষণা দেন তিনি।
হিরো আলম বলেন, ‘আশা করি সবাই ভালো আছেন। কাল থেকে অনেক বিষয়ে ভেবে দেখলাম। সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমি আর এফডিসিতে যাব না। আর কোনো সিনেমাও বানাব না। কারণ, আমি দেখেছি, এই সুশীল সমাজের লোক আমাকে মেনে নেবে না। চলচ্চিত্রের লোকজন কখনও আমাকে মেনে নেবে না। আমাকে ওরা একের পর এক ধিক্কার, লাঞ্ছিত, অপমান করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘গতকাল (৩০ জানুয়ারি) এফডিসিতে পরিচালক শাহীন সুমন অনেক লোকের মধ্যে অপমান করে আমাকে বের করে দেয়। আমি আর কারও বিরুদ্ধে কোনো কথা বলব না, এফডিসিতে যাব না, চলচ্চিত্রও নির্মাণ করব না।’
কান্নাজড়িত কণ্ঠে আক্ষেপের সুরে হিরো আলম জানান, ‘এই চলচ্চিত্রের জন্য আমি কী না করেছি! চলচ্চিত্রকে ভালোবাসি বলেই ফেসবুক, ইউটিউব, বিভিন্ন কনসার্ট থেকে উপার্জনের টাকা দিয়ে সিনেমা বানাই। অনেক দুঃখ-কষ্টে সিনেমা ছেড়ে দিলাম।’
প্রসঙ্গত, গত ২৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়া শিল্পী সমিতির নির্বাচনে চলচ্চিত্রের ১৭টি সংগঠনের সদস্যদের এফডিসিতে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। আর তাই সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিজেদের অপমানের বদলা নিতে তিন দফা দাবিতে লাগাতার কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন তারা।
রোববার (৩০ জানুয়ারি) এই ১৭টি সংগঠনের নেতাদের আন্দোলনে যোগ দিতে এফডিসিতে গিয়েছিলেন হিরো আলম। কিন্তু পরিচালক শাহীন সুমন তাকে অপমান করেন এবং বের হয়ে যেতে বলেন।