নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার নয় ইউপিতে স্ব স্ব প্রার্থীর সমর্থকরা তাদের নিজ নিজ এলাকায় রাত জেগে ভোট পাহারা দিচ্ছেন।উদ্দেশ্য ভোট কেনাবেচা ঠেকানো। প্রার্থীরা রাতেই এ কাজটা করতে পারেন- এমন আশঙ্কা থেকেই নিজ উদ্যোগে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন তাঁরা। গত রবিবার রাত থেকে প্রায় প্রতিটি গ্রামে চলছে এই পাহারা।
নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে প্রার্থী ও সমর্থকদের উৎকণ্ঠা ততটাই বাড়ছে। মাঠের ও ভোটের লড়াইয়ে কেউ কাউকে চুল পরিমাণ ছাড় দিচ্ছেন না।সন্ধ্যার পর থেকেই প্রতিটি ইউপির স্ব স্ব প্রার্থীর সমর্থকরা তাদের এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জোট বেঁধে পাহারা দিতে থাকে মধ্যরাত পর্যন্ত। সেইসঙ্গে মোটরসাইকেল নিয়েও টহল দিতে দেখা যাচ্ছে অনেককে। অপরিচিত কাউকে দেখলে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে সে কার সমর্থক।এছাড়া নির্বাচনী এলাকাগুলোর দোকান-পাঠ, হাট-বাজার ইত্যাদিত স্থানে একই আলোচনা ইউপি নির্বাচনে কে হচ্ছেন কোন এলাকার আগামী দিনের অভিভাবক। চেয়ারম্যান প্রার্থীদের আলোচনার সঙ্গে সমানতালে আলোচনায় রয়েছে সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ও সাধারণ সদস্য পদ প্রার্থীরা।রাত জেগে ভোট পাহারা দেয়া হচ্ছে কেন এমন প্রশ্নের জবাবে প্রার্থীদের সমর্থকরা বলেন, ভোটের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। তাই শেষ মূহূর্তে কেউ যেন তাদের পক্ষের ভোটারদের টাকার লোভ বা ভয়ভীতি দেখিয়ে স্বার্থ উদ্ধার করতে না পারে সে জন্যই এ পাহারা। কারণ আমরা চাই একজন ভালো মানুষ আমাদের নির্বাচিত প্রতিনিধি হয়ে আসুক।এবারের নির্বাচনে শেষ হাসি কে হাসে বা কার গলায় ওঠে বিজয়ের মালা সে অপেক্ষায় উপজেলার ৯টি ইউপির ভোটারবৃন্দ।আগামী ১১ নভেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, দোয়ারাবাজার উপজেলার নয় ইউনিয়নে ৮২টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এসব কেন্দ্রে ভোটার রয়েছেন মোট ১লাখ ৬৮ হাজার ৪৯৭ জন। এর মধ্যে মহিলা ভোটার সংখ্যা ৮৩হাজার ৫ শত ৫৬জন এবং পুরুষ ভোটার ৮৫ হাজার ৫ শত ৪০ জন। চেয়ারম্যান পদে ৪১ জন, সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ১০৮ জন ও সাধারণ সদস্য পদে ৩৫৫ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
রেজাউল করিম নামে কলাউড়া গ্রামের এক ভোটারের ভাষ্য: ‘একজন প্রার্থীর লোক এসে আমার হাতে ৫ শ টাকার একটি নোট গুঁজিয়ে দিয়ে তাঁর প্রার্থীকে ভোট দিতে বলেছিলেন। আমি সেই টাকা নিইনি। টাকার বিনিময়ে নিজের বিবেক বিক্রি করব না। অনেক প্রার্থীই ভোটারদের প্রকাশ্যে টাকা দিচ্ছেন।’ এ ছাড়া ‘ভোট দেয় ভোটারে, টাকা খায় চিটারে’ বলে মন্তব্যও করেন তিনি।
একাধিক চেয়ারম্যান, মেম্বার ও সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার প্রার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভোট কেনাবেচা ঠেকাতে বাংলাবাজার ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ডেই চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকেরা পাহারা বসিয়েছেন। ভিন্ন ভিন্ন দলে ভাগ হয়ে তাঁরা গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকছেন। ভোটের আগের রাত (বুধবার ) পর্যন্ত এ পাহারা চলবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের একজন মেম্বার প্রার্থী বলেন, ‘আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ভোট কেনার ঘোষণা দিয়ে মাঠে নেমেছেন। নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসায় ওই প্রার্থীর লোকজন টাকা পয়সা নিয়ে রাতের বেলায় ঘোরাঘুরি করছেন। আমার কর্মী সমর্থকেরাও ভোট বেচাকেনা ঠেকাতে গ্রামে গ্রামে পাহারা দিচ্ছেন।’
কলোনী গ্রামের বাসিন্দা আলম হোসেন বলেন, ‘চোর-ডাকাত ঠেকাতে মানুষ রাতে পাহারা দেয়। আমরা চোর-ডাকাত নয়, ভোট বেচাকেনা ঠেকাতে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছি। প্রচণ্ড ঠান্ডায় রাত জাগা কষ্টকর হলেও নির্বাচনের আগের রাত পর্যন্ত এ পাহারা চলবে।’
দোয়ারাবাজারে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাইফুদ্দীন বলেন, নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার কারণে প্রার্থীরা নানা ধরনের আশঙ্কা করবেন। এটাই স্বাভাবিক। তবে কারও বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের ব্যাপারে লিখিত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি