নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বাইসাইকেল, ক্লাসরুম, পাঠদান, বাসা, মসজিদ এই সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকে বিলাসিতাহীন সাদামাঠা সহজ সরল জীবন যাপন করেছেন সুনামগঞ্জের দ্বীনি সিনিয়র আলিম মডেল মাদ্রাসার শিক্ষক মো.জাহেদ উদ্দিন (৫২)।
তিনি রোববার রাত ১২টায় তাঁর বাসভবনে আকস্মিকভাবে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
তিনি সুনামগঞ্জ পৌরসভার ষোলঘর মহল্লায় বসবাস করতেন। তাঁর স্থায়ী ঠিকানা নেত্রকোনা সদর উপজেলার ষাট কাহন গ্রামে। মৃত্যুকালে তিনি ১ ছেলে ১ মেয়ে, অসংখ্য গুনগ্রাহী ও আত্বীয় স্বজন রেখে গেছেন।
তিনি ১৯৯১ সাল থেকে দ্বীনি সিনিয়র আলিম মডেল মাদ্রাসায় শিক্ষকতা শুরু করেন। উচ্চাভিলাষ,উচ্চাকাংখাহীন এই ভাল মনের মানুষটি সুযোগ থাকা সত্ত্বে ও আরো উন্নত জীবন জীবিকার সন্ধান না করে আদর্শ পেশা শিক্ষকতা এই মাদ্রাসায় শুরু হয়। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ছিলেন এখানেই।
আজ সোমবার সকাল ১০ টায় জাহেদ উদ্দিনের নিজ কর্মস্থল সুনামগঞ্জের দ্বীনি সিনিয়র আলিম মডেল মাদ্রাসার ষোলঘর পুরাতন জামে মসজিদ ঈদগাহ ময়দান প্রথম নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়।
জানাযার নামাজের পূর্বে দ্বীনি সিনিয়র আলিম মডেল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো.আলী নূরের উপস্থিততে সিনিয়র শিক্ষক মমতাজুল ইসলাম আবেদের উপস্থাপনায় সহকর্মীবৃন্দ জাহেদ উদ্দীনের জীবন কর্মের উপর সংক্ষিপ্ত আলোকপাত করেন।
সহকর্মী মাওলানা আবু তাহির মো.খালিদ বলেন, অত্যন্ত বিনয়ী, লোভলালসা মুক্ত মানুষ।ঝামেলামুক্ত জীবন যাপনে অভ্যস্ত ছিলেন। আর্থিক টানাপড়েন থাকলে ও কারো কাছ থেকে সহজে ঋন নিতেন না। তিনি সবসময় জামাতের সাথে নামাজ আদায় করতেন।
অধ্যক্ষ মাওলানা আলী নূর বলেন, মো.জাহেদ উদ্দিন ছিলেন খুবই অমায়িক ভাল মনের মানুষ। তিনি ছিলেন আপাদমস্তক একজন শিক্ষকের গুনাবলী সম্পন্ন মানুষ।তাহার কর্মজীবনে সততার কোন অভাব ছিলনা।তার মতো সহকর্মী বিয়োগে নিশ্চিতভাবই একটা শূন্যতা তৈরি করবে।