বিপ্লব রায়, শাল্লা: আর মাত্র ক’দিন বাকী। শুরু হবে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দূর্গাপূজা। এই উৎসবকে সামনে রেখেই সবাই মেতে উঠেন আনন্দে। আর এই আনন্দকে ঘিরেই এখন পুরোদমে চলছে প্রতিমা সজ্জিত করার কাজ। তাই প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শাল্লার শিল্পীরা। প্রতিমায় মাঠি লাগানোর কাজ শেষ করে রং তুলি দিয়ে প্রত্যেকটি মন্দিরে চলছে রং করার কাজ।
এবার শাল্লায় ৩০টি মণ্ডপে দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে প্রায় প্রতিটি মণ্ডপে দেবীর মূর্তি নির্মাণ কাজ প্রায় শেষের দিকে। এখন শুধু রঙ তুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তোলার অপেক্ষা। সবমিলে প্রতিমা শিল্পীদের এখন দম ফেলার সময় নেই।
উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির তথ্য মতে, এবারে শাল্লা উপজেলায় ৩০টি পূজা মণ্ডপে দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এরমধ্যে আটগাও ইউনিয়নে ৮টি হবিবপুর ইউনিয়নে ৯টি, বাহাড়া ইউনিয়নে ১১টি, শাল্লা ইউনিয়নে ২টি মণ্ডপে পূজা হবে।
প্রতিমাশিল্পী কৃষ্ণ পাল বলেন, প্রতিমা তৈরিতে এঁটেল ও বেলে মাটি ছাড়াও বাঁশ-খড়, দড়ি, লোহা, ধানের কুঁড়া, পাট, কাঠ, রঙ, বিভিন্ন রঙের সিট ও শাড়ি-কাপড়ের প্রয়োজন হয়।
প্রতিমাশিল্পী রুপক পাল বলেন, সারা বছর এই সময়ের জন্য অপেক্ষায় থাকি। কারণ বছরের অন্য সময় তেমন কাজ না থাকলেও এই সময় ব্যস্ততা বেড়ে যায়। তবে সময়ের সঙ্গে মানুষের জীবন যাত্রার ব্যয় বাড়লেও সে অনুপাতে প্রতিমা তৈরির মজুরি বাড়েনি।
শাল্লা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুব্রত কুমার দাস(খোকন) আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব হচ্ছে শারদীয় দুর্গা পূজা। প্রতি বছরের মতো এবারও এ উৎসবটি জাকজমকভাবে উদযাপন করা হবে। এবার দেবী দুর্গার আগমন ঘটবে ঘোটকে(ঘোড়া) করে এবং গমন করবেন দোলায় করে।
তিনি আরও বলেন, ‘এ বছর শাল্লায় মোট ৩০টি মণ্ডপে দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ১২ অক্টোবর শাল্লা সদর দূর্গা মন্দিরে অনুষ্ঠানিকভাবে দুর্গা পূজার উদ্ধোধন করা হবে। নির্বিঘ্নে পূজা পালন করতে প্রশাসন থেকে আমরা সার্বিক সহযোগিতা পাচ্ছি।
শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, দুর্গাপুজায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিতে শাল্লার প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে। তাই বিভিন্ন বিশৃঙ্খলা এড়িতে যেতে প্রশাসনের পাশাপাশি গ্রাম পুলিশ রয়েছে। এছাড়া বিশেষ টহল দলের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।