অনলাইন ডেস্ক: ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে চারটি বিভাগে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলার বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশের আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী আগামী তিন দিন চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগ এবং তৎসংলগ্ন ভারতের ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এরপর আরও দুই দিন মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
এর প্রভাবে চট্টগ্রাম বিভাগের গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বান্দরবান ও কক্সবাজারের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। একই সময়ে ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি জেলার বিভিন্ন স্থানে এসব নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও সাময়িক প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের মনু, ধলাই, খোয়াই, কংস, সারিগোয়াইন, সোমেশ্বরী, যাদুকাটা ও ভুগাই নদীর পানি বেড়েছে। আগামী তিন দিন এসব নদীর পানিও দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার কিছু এলাকায় নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
অন্যদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগের তিস্তা নদীর পানিও বৃদ্ধি পেয়েছে। ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বর্তমানে স্থিতিশীল থাকলেও আগামী তিন দিনে এসব নদীর পানিও দ্রুত বাড়তে পারে। ফলে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নীলফামারী, লালমনিরহাট ও রংপুর জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।
এ ছাড়া আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলার ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও সাময়িক প্লাবনের সম্ভাবনা রয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও কুশিয়ারা নদীর পানি স্থিতিশীল রয়েছে। তবে আগামী তিন দিনে এ দুই নদীর পানিও দ্রুত বাড়তে পারে। এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্থানে নদীর পানি সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।