অমিত তালুকদার : সুনামগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকলেও বারবার ধরা পড়ছেন মাদকসেবীরা, আর আড়ালেই থেকে যাচ্ছে মাদকের সরবরাহকারী ও ব্যবসায়ী চক্র। সর্বশেষ সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে গাঁজা সেবনের দায়ে এক ব্যক্তিকে কারাদণ্ড দেওয়া হলেও, মাদকের উৎস ও বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে।
গতকাল ৪ জুলাই জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. রাসেল মিয়ার নেতৃত্বে এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের ‘ক’ সার্কেলের সমন্বয়ে সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়।
অভিযানে গোবিন্দপুর গ্রামের মোঃ মাসুক মিয়া (৪৫)কে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে একটি গাঁজা সেবনের কলকি, একটি গাঁজা কাটার কাঠ এবং একটি গাঁজার কাটলি জব্দ করা হয়। পরে আলামত ঘটনাস্থলেই ধ্বংস করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে মাদক সেবনের অপরাধে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। পরে তাকে সুনামগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। মামলায় প্রসিকিউশন পরিচালনা করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মুহাম্মদ আমিনুল কবির। তবে অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, একজন মাদকসেবীর কাছে মাদক সেবনের সরঞ্জাম পাওয়া গেলেও তিনি কোথা থেকে মাদক সংগ্রহ করেছেন, কারা সরবরাহ করেছে এবং সেই চক্রের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এসব বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, জেলার বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই গাঁজা, ইয়াবা ও অন্যান্য মাদকের ছোট-বড় নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে। মাঝেমধ্যে মোবাইল কোর্টে সেবনকারীরা সাজা পেলেও মূল ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান ও আইনি ব্যবস্থা খুব কমই চোখে পড়ে। ফলে মাদকের বিস্তার কমছে না।
এ ব্যাপারে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ আবুল হোসেন জানালেন, মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং আইন অনুযায়ী অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
তবে সচেতন নাগরিক ও বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদক নিয়ন্ত্রণে কেবল ভোক্তাকে শাস্তি দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। মাদকের উৎস, সরবরাহকারী, অর্থদাতা এবং স্থানীয় নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করে ধারাবাহিক গোয়েন্দা অভিযান পরিচালনা না করলে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়।
সুনামগঞ্জ জার্নাল/এইচআর