অনলাইন ডেস্ক: ধর্ম অবমাননার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার বিনোদপুর রাম কুমার উচ্চবিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও গণিতের শিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মণ্ডল জামিনে ১৯ দিন পর কারামুক্ত হয়েছেন।
কারামুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কারাগারের জেলার আবুল বাসার। তিনি জানান, জামিনের সব কাগজপত্র হাতে পেয়ে রোববার (১০ এপ্রিল) বিকেল ৪টা ৫০মিনিটে তাকে মুক্তি দেয়া হয়।
মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে ঢাকায় চলে যান শিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মণ্ডল। কারাবন্দী থাকায় ডায়াবেটিসসহ শারীরিক অসুস্থতার কারণে চিকিৎসার উদ্দেশে ঢাকায় তার এক আত্মীয়ের বাসায় গেছেন বলে তার স্ত্রী ববিতা হাওলাদার জানান।
এর আগে দুপুর সোয়া ১টার দিকে মুন্সীগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোতাহারাত আক্তার ভূঁইয়া ৫ হাজার টাকার মুচলেকায় তার জামিনের আদেশ দেন।
জেলা কারাগার থেকে মুক্তির পর প্রতিক্রিয়ায় হৃদয় মণ্ডল বলেন, ‘মুক্তি পাওয়ায় আমি খুশি। আমার মতো আর কোনো শিক্ষকের জীবনে যেন এমন ঘটনা না ঘটে। আমি যেন আমার পরিবার নিয়ে নিরাপদে থাকতে পারি। সেজন্য প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা চাই।’
শিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মন্ডল বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা। এরকম পরিস্থিতিতে যেন রাষ্ট্রের আর কেউ না পড়ে।’
জামিনের পক্ষে যুক্তিতর্ক তুলে ধরেন অভিযুক্ত শিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মন্ডলের আইনজীবী শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ। সরকার পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন অ্যাডভোকেট পল্টু। গত ২৩ ও ২৮ মার্চ আদালতে হৃদয় মণ্ডলের জামিন চাওয়া হয়। সেই সময় আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
গত ২০ মার্চ দশম শ্রেণির অনির্ধারিত ক্লাসে গিয়ে ছাত্রদের সঙ্গে বিজ্ঞান নিয়ে আলোচনা করছিলেন হৃদয় মণ্ডল। সেখানে একজন ছাত্র বিজ্ঞানের সঙ্গে ধর্মের তুলনা করে কিছু প্রশ্ন করেন। হৃদয় মণ্ডল সেগুলোর জবাব দেন। ক্লাসের এক ছাত্র ওই আলোচনা মোবাইলে রেকর্ড করে এবং তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। দুই দিন পর কিছু ছাত্র ও স্থানীয় লোকজন মিলে হৃদয় মণ্ডলের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে থানায় নিয়ে যায়। স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে।
এ ঘটনায় ওই রাতেই বিদ্যালয়ের ইলেকট্রিশিয়ান আসাদ বাদী হয়ে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্মানুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগে মামলা করলে সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় শিক্ষক হৃদয় মণ্ডলকে।
এ বিষয়ে হৃদয় মণ্ডলের আইনজীবী শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বলেন, ‘আদালতের রায়ে আজ আমরা ন্যায্য বিচার পেয়েছি। আমার মক্কেল হৃদয় মণ্ডল কোথাও ধর্ম অবমাননা করেননি। তিনি ধর্মের বিরুদ্ধে কিছু বলেননি। এই আদেশের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’
রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের এপিপি সিরাজুল ইসলাম পল্টু হৃদয় মণ্ডলের জামিনের বিরোধিতা করেন।
রায় ঘোষণা ও স্বামীর জেলা কারাগার থেকে মুক্তির পর প্রতিক্রিয়ায় হৃদয় মণ্ডলের স্ত্রী ববিতা হাওলাদার বলেন, ‘আমার স্বামী জামিন পাওয়ায় আমি খুশি। আমি তাকে নিয়ে যেন নিরাপদে থাকতে পারি, আমার স্বামী যেন নিরাপত্তাহীনতায় না ভোগেন, তার নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাই।’