শাল্লা প্রতিনিধিঃ সুনামগঞ্জের শাল্লায় “শাল্লা উপজেলা শ্রমিক ইউনিয়ন” নামে ভূয়া এক সংগঠনের নাম ভাঙিয়ে অসহায় ও দরিদ্র নারীদের কাছ থেকে কার্ড ও ফরম দিয়ে জনপ্রতি সাড়ে ৬শ’ টাকা করে হাতিয়ে নিচ্ছে একটি চক্র। চক্রের মূল হোতা শেখ ইকবাল হোসেন (বাদশা)।
শুক্রবার(২৫ মার্চ) উপজেলার বাহাড়া ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন একটি কক্ষে “শাল্লা উপজেলা শ্রমিক ইউনিয়ন” নামের কার্ড দিয়ে টাকা নিতে দেখা যায় তাকে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখেন “শাল্লা উপজেলা শ্রমিক ইউনিয়ন” নামের কার্ড একটি টেবিলে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। কার্ডগুলো সাড়ে ৬শ’ টাকার বিনিময়ে নিচ্ছেন কিছু নারী শ্রমিক।
এসময় সাংবাদিকদের দেখে উপস্থিত শ্রমিকদের কার্ডের বিষয়ে প্রশ্ন করলে জানান, তাদের বলা হয়েছে ৬মাস পরপর ১৮শ’ টাকা ভাতা দেওয়া হবে। বিভিন্ন কাজও তারা করতে পারবেন। প্রতি মাসে আবার ৫০টাকা চাঁদাও দিতে হবে। এভাবেই গ্রামের সহজ সরল মানুষকে ভুল বুঝিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে শেখ ইকবাল হোসেন।
এর আগে “শাল্লা উপজেলা নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন” নামেও কার্ড বিতরণ করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এভাবেই সাধারণ মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে পৃথক পৃথক সংগঠনের নামে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন ইকবাল হোসেন নামের এই প্রতারক। বিভিন্ন গ্রামে নিজে না গিয়ে দালালের মাধ্যমে টাকা নিয়েছেন প্রতারক ইকবাল হোসেন।
মল্লিকা বেগম নামে এক শ্রমিক বলেন, সাড়ে ৬শ’ টাকা দিয়েছি। কইছে ৬মাস পরে ভাতা দিবো, কাজ আইলে কাজ দিবো। অনেক মাইনসে টাকা দিতাছে। আমরা তো ভালো কইরা জানি না।
উপজেলার রেখা রাণী রায় বলেন, গত বছর ৭৬জন শ্রমিকের নামে কার্ড দিয়ে ১৫০ টাকা করে নিয়েছেন এক ব্যক্তি। আমাদের বলেছেন প্রতিদিন কাজ করলে ৬শ’ টাকা রোজ দেওয়া হবে। সরকারি রিলিফও দেওয়া হবে। পরে কিছুই দেওয়া হয় নি। অন্যান্য মানুষের কাছ থেকে আরো বেশি টাকা নিয়েছে বলে জানান তিনি।
এবিষয়ে শেখ ইকবাল হোসেন বলেন, সাড়ে ৬শ’ টাকা তার কার্ডসহ যা কিছু আছে ইডার খরচ। এধরণের আর কোনো উপজেলায় কমিটি আছে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এনিয়ে গবেষণা করেননি। সেটির খবর নেই নাই। এই সংগঠনে ৮শ’ ৭জন সদস্য রয়েছে বলে জানান তিনি। সংগঠনের নেতৃত্বও তিনি একাই দেন বলে জানান।
এবিষয়ে শাল্লা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস ছাত্তার মিয়া বলেন, কিতা খিতি কইরা সংগঠন একটা করছে। টাকা নেওয়ার তো কথা না। ইতা তো হুদা বাটপারি বলে জানান তিনি।
এব্যাপারে আঞ্চলিক শ্রম দপ্তর সিলেটের উপ-পরিচালক খোরশেদ আলম বলেন, কাউকে এধরণের কোনো কমিটির অনুমতি দেওয়া হয় নাই। এটা ভুয়াও হতে পারে। উপজেলা শ্রমিক ইউনিয়ন তো কোনো নাম হয়না। আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আবু তালেব বলেন, তথ্য নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।