বিশেষ প্রতিনিধি: আগামী ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সবকটি ইউনিয়নেই নির্বাচন। মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৯ ইউনিয়নে ৬৩ প্রার্থী ৩য় ধাপের ভোটযুদ্ধে রয়েছেন আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও জমিয়ত মনোনীত প্রার্থী। পিছিয়ে নেই স্বতন্ত্র ও বিদ্রোহীরাই। বরং স্বতন্ত্র/বিদ্রোহীরাই সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন বলে জনমত জরিপ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার দেয়া তথ্য থেকে জানা গেছে। এক্ষেত্রে তৃণমূলের মতামত উপেক্ষিত হয়েছে বলে মনে করছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। আওয়ামী লীগ মনোনীত ৯টি ইউনিয়নে দলীর প্রতীক নৌকার বিপরিতে একাধিক প্রার্থী। দলীর সিদ্ধান্তে না মেনে বিদ্রোহী হিসেবে পিছিয়ে নেই বিএনপি-জাপা মনোনীত প্রার্থীগণও। ফলে ভোটের মাঠে এর উত্তাপ ছড়াচ্ছে ক্ষণে ক্ষণে। বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী না দিলেও দলটির গুরুত্বপূর্ণ পদধারীরা প্রার্থী হয়েছেন স্বতন্ত্র হিসেবে। রয়েছেন দলীয় বিদ্রোহীর তালিকায়। জাপও এক্ষেত্রে কম যায়নি।
জেলা শহরের সবচেয়ে নিকটবর্তী কুরবাননগর ও গৌরারং ইউনিয়নে ভোটে উত্তাপ রূপ পাল্টাচ্ছে নানানভাবে। কখনো দলীয়, কখনো আঞ্চলিক আবার কখনো গোষ্ঠি কেন্দ্রীক। এক্ষেত্রে মূল লড়াইয়ে রয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যানদ্বয়।
সদর উপজেলার সবচেয়ে বেশী ভোটারের ইউনিয়ন গৌরারং। ভোটার ২৭ হাজার ০৬৪ (পুরুষ ১৩৮১৬-নারী ১৩২৪৭) প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী ১০ জনের মধ্যে স্বতন্ত্র ও বিদ্রোহীদের এগিয়ে রাখছেন ভোটাররা। আওয়ামী লীগ মনোনীত ছালমা আক্তার চৌধুরী ও তার বান্ধবী চম্পা বেগমের প্রতিদ্বন্দ্বিতা রুপ নিয়েছে প্রতিহিংসায়। ভোটের মুল লড়াই হবে বিএনপি নেতা বর্তমান চেয়ারম্যন ফুল মিয়া ও আওয়মী বিদ্রোহী সরওয়ার আহমদ, জাপা মনোনীত শওকত আলী ও বিএনপি বিদ্রোহী অ্যাড. শহীদুল ইসলামের। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কামাল হোসেন ও স্বতন্ত্র আতিকুর রহমান চৌধুরী সিপন, নুরুজ আলি, শামসুল হকও নিজেদের ভোটের লড়ায়ে পিছনে রাখতে নারাজ।
কুরবাননগর মোট ভোটার ১৪ হাজার ৭১৬ (পুরুষ-৭৪৭৭ নারী-৭২৩৯) প্রতিদ্বন্দ্বি ৬ প্রার্থীর তিনজন। আওয়ামী লীগ। শামস উদ্দিন নৌকা মার্কার মনোনীত প্রার্থী হলেও বিদ্রোহী আফজাল নুর ও কোহিনুর আলম ফলে স্বস্থীতে বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত বর্তমান চেয়ারম্যান আবুল বরকত। স্বতন্ত্র প্রতিদ্বন্দ্বি শাহিনুর রহমান শাহীন ও আব্দুল হাসিব কাওসারও জয়ের ব্যপারে আশাবাদি। সাবেক যুবলীগ নেতা আফজাল নুর নিজেকে বিদ্রোহী মানতে নারাজ। তিনি বলেন আমি জনগণ সমর্থীত স্বতন্ত্র প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী।
লক্ষণশ্রী ইউনিয়নে প্রার্থী পাঁচজন হলেও মুল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপি রাজনীনিতে জড়িত টানা দুইবারের বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল অদুদ ও জাতীয় পার্টির বিদ্রোহী মোশাহিদ আলম মহিম তালুকদারের। তবে আওয়ামীলীগ মনোনীত মিজানুর রহমান ও জাপা মনোনীত প্রার্থী আব্দুল মান্নান লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে তেমনটি সুবিধা করতে পারছেন না। বাংলাদেশের সাম্য বাদী দলের হয়ে ফারুক রশিদ নির্বাচনে আছেন। এই ইউনিয়নে মোট ভোটার ১১ হাজর ৬৪৫ (পুরুষ ৫৭৮৮-নারী ৫৮৫৭)।
১৫ হাজার ৯৭৭ ভোটারে মোল্লাপাড়া ইউনিয়নে সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী আব্দুস সালাম ও জাপা মনোনীত শামীম আহমদের ভোটর লড়াই রূপ নিয়েছে প্রবীন ও নবীনের ভোট যুদ্ধ। আওয়ামী লীগ মনোনীত মুক্তিযুদ্ধা মনির উদ্দিন চমক দেখাতে পারে বলে কেউ কেউ মনে করছেন। বিএনপি’র গেল বারের বিদ্রোহী বর্তমান চেয়ারম্যান নুরুল হকের বিগত দিনের কর্মকান্ডের কারণে কিছুটা বেকায়দায় রয়েছেন। স্বতন্ত্র হিসেবে মোশরফ উদ্দিন মনির, মামুন রশিদ, আব্দুল মমিন রয়েছেন গোষ্টি বিত্তিক ভোটকে সম্বল করে।
সুরমা ইউনিয়নে ভোটার রয়েছেন ২২ হাজার ২৩২ (পুরুষ ১১৪৪৪-নারী ১০৭৭৮)। সাত প্রার্থীর মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুস ছাত্তার, বিদ্রোহী সাবেক চেয়ারম্যান আমির হোসেন রেজা এবং জাপা মনোনীত সিরাজুল ইসলামের মধ্যেই হবে ত্রিমুখী লড়াই। স্বতন্ত্র ফয়সল আহমদ, অ্যাড. নুর হোসেন, তাজুল ইসলাম, শামসুল আলম, তাজুল ইসলামও কম যাচ্ছেন না বলে মনে করছেন তাদের সমর্থক।
রঙ্গারচর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত মুক্তিযুদ্ধা আব্দুল মজিদ, বিএনপি’র বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল হাই জাপা মনোনীত ফয়জুর রহমান ত্রিমুখী ভোটের উত্তাপ দিনে দিনে প্রকোপ হচ্ছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আব্দুল গফুর, স্বতন্ত্র মহি উদ্দিন, আকমল হোসেন রনি এবং নুর উদ্দিনসহ মোট সাতজন আছেন ১৮ হাজার ২৭৬(পুরুষ ৯২৩৮-নারী ৯০৩৭) ভোটে বিপরিতে।
আওয়ামী লীগ মনোনীত মোকছুদ আলী, জাপা মনোনীত রশিদ আহমদ, স্বতন্ত্র আনোয়ার হোসেন, আব্দুল কাদির এই চারজন জাহাঙ্গীর নগর ইউনিয়নে ভোটযুদ্ধে সামিল হয়েছেন ২০ হাজর ১৭০(পুরুষ ১০২৩৮-নারী ৯৯৩২) ভোটার সম্বল করে।
মোহনপুর ইউনিয়নের প্রার্থী আটজন। আওয়ামী লীগ মনোনীত সিতেষ তালুকদার মঞ্জু, বিদ্রোহী মঈনুল হক মাইনুল্লাহ, জাপা মনোনীত বর্তমান চেয়ারম্যান নুরুল হক, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম মনোনীত ফয়জুন নুর ফয়েজ রয়েছেন চতুর্মুখি প্রতিদ্বন্দ্বি। এই ইউনিয়নে ১৩ হাজার ২০১(পুরুষ ৬৬২৫ নারী-৬৫৭৬) ভোট দেবেন ২৮ নভেম্বরের নির্বাচনে। স্বতন্ত্র মছিহুর রহমান, মোহাম্মদ আলী, ফয়জুল হক, হেলাল আহমদের সমর্থকও বিজয় প্রত্যাশি।
তরুণ সেচ্চাসেবক লীগ নেতা আওয়ামী লীগ মনোনীত অ্যাড. বুরহান উদ্দিন কাঠইর ইউনিয়নে জাপা মনোনীত ফারুক মিয়া, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম মনোনীত বর্তমান চেয়ারম্যান মুফতী শামসুল ইসলামের সঙ্গে রয়েছেন তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। ১২ হাজর ১৭৮(পুরুষ ৬১১৭-নারী ৬০৬১) ভোটারের মতামত নিয়ে এই ইউনিয়নে কে ছিনিয়ে নেবেন বিজয় মালা। বিজয়ের ব্যাপরে আশাবাদি স্বতন্ত্র আজিজুর রহমান তালুকদার, কাজী নুরুল হক নোমান, জিয়াউর রহমান, আব্দুল মতিন, রফিকউল্লাহ, শিরতাজ আহমদরাও।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও জেলা রিটার্টিং অফিসার মুরাদ উদ্দিন হাওলাদার বলেন, নির্বাচন সুষ্ট, অবাদ ও শান্তিপূর্ণ করতে সবধরনের প্রস্তুতি রয়েছে তাদের। সদর উপজেলায় লক্ষণশ্রী ইউনিয়নে ইভিএম-এ ভোট গ্রহন হবে।