জয়নাল আবেদীনঃ গত মাসে(অক্টোবর) সুনামগঞ্জ সদর থানায় একটি মেয়ে হারানোর জিডি হয়। পুলিশ তদন্ত করতে গিয়ে জানা যায়, মেয়েটি ফেসবুকে এক ছেলের সাথে প্রথমে পরিচয় ঘটে। তারপর মেসেঞ্জারে এবং মোবাইলে চ্যাট করতো। এরপর তাদের মধ্যে তুমুল মন দেয়া নেয়া(প্রেম) চলতে থাকে। যেন এ যুগের লাইলি-মজনুকেও হার মানাবে।
মেয়েটির নাম জুলেখা(ছদ্মনাম)। বয়স পনের। টিনএজ বয়স। ছেলেটি মেয়েকে অফার করলো, চল আমরা পালিয়ে বিয়ে করি। মেয়েটি না না করেও, এক পর্যায়ে রাজি হয়ে যায়। সিদ্ধান্ত নিয়ে জুলেখা পরিবারের কাউকে না জানিয়ে পালিয়ে যায়।
পরিবারের লোকজন জুলেখাকে না পেয়ে হারিয়ে গেছে বলে থানায় জিডি করে বাবা। জিডির সুত্র ধরে পুলিশ কাজ শুরু করে। একপর্যায়ে দেখা গেছে ছেলেটি ঢাকায় থাকে। জুলেখা পালিয়ে যাওয়ায় তাকে পেয়ে ঢাকায় সাভারে নিয়ে যায় ছেলে।
এদিকে পুলিশ তদন্তে মাঠে। আবার মেয়ের অজান্তে ছেলেটি মেয়ের বাবাকে ফোন করে মুক্তিপণ হিসেবে দুই লক্ষ টাকা দাবি করে। পরে এক লক্ষ টাকায় রাজি হয়। না হলে মেয়েকে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দেয় ছেলে।
অন্যদিকে পুলিশ আসামি ছেলেকে আইডেন্টিফাই করে তিনদিন পরিশ্রম করে ঢাকার সাভার থেকে মেয়েকে বিনা মুক্তিপণে জীবিত উদ্ধার করে।
সুতরাং প্রেম করবেন, বুঝে শুইনে কইরেন। না হলে জীবন যাইতে পারে।আর বাবা-মা রা, ছেলে-মেয়ের দিকে খেয়াল রাইখেন। তারা কারো সাথে গুজুর – ফুজুর করে কি না, মানে প্রেম করে কি না।কারণ টিনএজ বয়স। চোখে সবই লাইলি- মজনুর মত হয়ে প্রেম করতে মন চায়।
প্রিয় পাঠক, এটি বাস্তব ঘটনা। এই মেয়েকে উদ্ধার করতে পুলিশের কি পরিমাণ পরিশ্রম হয়েছে তা আপনাকে বুঝানো যাবেনা। তার সাক্ষী আমি নিজে। পরে সাভারের র্যাবের সহায়তা নিয়ে মেয়েকে উদ্ধার করে বাবা মার কাছে ফেরত দিতে সক্ষম হয়েছি।
অভিজ্ঞতাঃ-
১। ছেলে – মেয়েরা, না জাইনা শুইনা প্রেমে পইড়েননা।
২। লাইলি- মজনু হইতে যাইয়েন না।কারণ লাইলি-
মজনু একটা কাহিনী মাত্র।
৩। বাবা-মা কে সন্তানের খেয়াল নিতে হবে। সন্তান কার
সাথে ফোনে কথা বলে, চ্যাট করে এসব।
৪। কিছু হলে পুলিশের সহায়তা নিতে পারেন ।
“এ পৃথিবী রঙের দুনিয়া, কে যে কখন খায় যে ধরা”। সচেতনতাই পারে আমাদের রক্ষা করতে। ধন্যবাদ।
লেখকঃ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(সদর সার্কেল), সুনামগঞ্জ।