নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক, খ্যাতিমান সাংবাদিক ও কলামিস্ট পীর হাবিবুর রহমান স্মরণে শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে সুনামগঞ্জে।
শনিবার দুপুরে শহরের পৌরবিপণিস্থ সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটি’র জগলুল মিলনায়তনে এ শোক সভার আয়োজন করে রিপোর্টার্স ইউনিটি।
এ সময় বক্তারা বলেন, পীর হাবিবুর রহমান একজন সাহসী কলম সৈনিক ছিলেন। তার ক্ষুরধার লেখায় লেখায় সমাজের কালো শক্তি সবসময়ই ক্ষুব্ধ হত। জন্মদিত নতুন আলোচনার ঝর তুলতো চায়ের কাপে। বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে কখনো আপস করননি। তিনি বলতেন আমর নেতা বঙ্গবন্ধু। আমার দল মানুষ। তিনি লেখতে গিয়ে কখনও কালো শক্তি চোখ রাঙানি তোয়াক্কা করেননি। তাদের চোখ রাঙানীকে ভয় পেতেন না। স্বাধীনতার সপক্ষে তার অবস্থান ছিল আমৃত্যু।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও পীর হাবিবের সহোদর পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ বলেন, পীর হাবিব নিজের মেধা দিয়ে অনেক লড়াই-সংগ্রাম করে সাংবাদিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। দেশবরেণ্য রাজনীতিকরা তাকে স্নেহ করতেন। তিনি আরো বলেন, পীর হাবিব দেশকে, বিশেষ করে সুনামগঞ্জকে গভীরভাবে ভালবাসতেন। সুনামগঞ্জকে দেশবাসীর কাছে প্রেমের, কবিতার, জল-জোছনার জনপদ হিসেবে পরিচিত করিয়েছিলেন। দেশের পক্ষে, স্বাধীনতার সপক্ষে লিখে গেছেন।
তিনি আরো বলেন, আপনাদের সবার সাথে তার চলাফেরা উঠাবসা ছিল। তার কোন আচরণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে তাকে ক্ষমা করে দেবেন।
সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নূরুল হুদা মুকুট বলেন, পীর হাবিব ছিলেন সুনামগঞ্জবাসীর গর্ব। জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক নেতাদের সাথে তাঁর গভীর সম্পর্ক ছিল। মানুষের বিপদে মানুষের উপকার করাই ছিল তাঁর নেশা। আমরা যারা রাজনীতি করি মানুষের পাশে দাঁড়াই ঠিকই। এসবের পিছনে কোন না কোন কারণ বা উদ্যেশ্য থাকে। কিন্তু হাবিব আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন দুর্দিনে। সুনামগঞ্জের সাংবাদিক ও পেশাজীবিদের পাশে দাঁড়াতো দুর্দিনে। এটাই তাঁর অন্যতম গুণ ছিল। আমরা হাবিবের পরিবারের পাশে আছি এবং থাকব।
সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখত বলেন, পীর হাবিব মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর ব্যাপারে আপস করেননি। সাহসিকতা দিয়ে জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মানুষের জন্য লিখেছেন, মানুষের জন্য করেছেন। উপকার করে মানুষকে ঋণী করে গেছেন। তিনি ঢাকায় সুনামগঞ্জের সাংবাদিকদের অভিভাবকই শুধু ছিলেন না আমাদের রাজনৈতিক নেতাদেরও অনেক সময় অভিভাবকত্ব করেছেন। তার আদর্শকে সুরক্ষিত রাখতে হবে। তাকে হৃদয়ে লালন করতে হবে। তাঁর শোককে শক্তিতে পরিনত করতে হবে। তিনিই সুনামগঞ্জকে জল-জোছনার শহর হিসাবে পরিচিত করেছিলেন। তার নামকে স্মরণীয় করে রাখতে শহরে একটি স্থাপনার নামকরণ করার চেষ্টা করব সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির দাবির প্রেক্ষিতে নয় আমি আমার নিজস্বতা থেকেই।
সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি লতিফুর রহমান রাজুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক হিমাদ্রী শেখর ভদ্রর সঞ্চালনায় শোক সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জয়নাল আবেদীন, সাবেক ভারপ্রাপ্ত পৌর মেয়র নূরুল ইসলাম বজলু, সুনামগঞ্জ পৌর কলেজের সহযোগী অধ্যাপক শাহ আবু নাসের, তাহিরপুর উপজেলঅ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অমল কান্তি কর, সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটি’র সহসভাপতি সেলিম আহমদ তালুকদার, সদস্য মাসুম হেলাল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এমরানুল হক চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, সদস্য কর্ণবাবু দাস প্রমুখ।
পরে পীর হাবিবুর রহমানের রুহের মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত পরিচালনা করেন সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটি’র সদস্য মাওলানা আমিনুল হক।