অনলাইন ডেস্কঃ পাটুরিয়া ঘাটে ডুবে যাওয়া রো রো ফেরি আমানত শাহ’র ফিটনেসের বয়স গত বছরই শেষ হয়ে গিয়েছিলো। তারপরও কর্তৃপক্ষ লক্কর ঝক্কর ফেরিটি ডকইয়ার্ডে জোড়াতালি দিয়ে নানাভাবে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার করছিলো।
অভ্যন্তরীণ নৌচলাচল অধ্যাদেশ অনুযায়ী, একটি নৌযানের নিবন্ধনের মেয়াদ ৩০ বছর। বিশেষ জরিপের (ফিটনেস) মাধ্যমে এরপর দু’বার পাঁচ বছর করে নিবন্ধনের মেয়াদ বাড়ানো যায়। তবে ৪০ বছরের বেশি সময় কোনোভাবেই কোনো নৌযান চলাচল করতে পারে না।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) নৌযানের তালিকা অনুযায়ী, ফেরি আমানত শাহ ১৯৮০ সালে তৈরি। ৩৩৫ জন যাত্রী ও ২৫টি যানবাহন বহন করতে পারে এটি। ৮০৬.৬০ টন ওজনের ফেরিটি সর্বোচ্চ ১০.২৫ নটিক্যাল মাইল গতিতে চলতে পারে।
জানা যায়, বুধবার (২৭ অক্টোবর) ট্রিপ নিয়ে দৌলতদিয়া থেকে পাটুরিয়া গিয়ে ভাসমান কারখানা মধুমতিতে ফেরিটি মেরামত করার কথা ছিলো। কিন্তু তার আগেই ঘটে যায় দুর্ঘটনা। সেদিন সকালে দৌলতদিয়া থেকে পাটুরিয়ার উদ্দেশে রওনা দেয়। মাঝ নদী পার হওয়ার পর ফেরিতে পানি উঠতে শুরু করে। পরে ফেরিটি পাটুরিয়া ঘাটে নোঙর করা হয়। এরপর যানবাহন আনলোড হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফেরিটি এক পাশে কাত হয়ে ডুবে যায়।
বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের পরিচালক মো. শাজাহান বলেন, বুধবার থেকে ডুবে যাওয়া যানবাহনগুলো উদ্ধারে জাহাজ হামজা কাজ শুরু করে। শুক্রবার (২৯ অক্টোবর) দুপুর পর্যন্ত ১০টি যানবাহন ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। ফেরি উদ্ধারে প্রত্যয় যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও সেটি আসছেনা। তবে উদ্ধারকারী জাহাজ রুস্তম উদ্ধার অভিযানে দ্রুত যোগ দিবে।